ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, হত্যাকাণ্ডটিকে আড়াল করতে তিনি একে একটি ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে রাজ্যের ধর জেলাতেও ঠিক একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, ভিন্দ জেলার আটের থানা এলাকায় এ অপরাধ সংঘটিত হয়। গত শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) অসিত যাদব বলেন, অভিযুক্ত নারী রুবি ও তাঁর প্রেমিক বিশাল বিমলকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী অপর এক ব্যক্তি এখনো পলাতক।
অনুরূপ ঘটনা ধর জেলায়
সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ধর জেলাতেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এক নারী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন। ওই নারীও প্রথমে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পর অপরাধ স্বীকার করেন তিনি।
প্রাথমিক তথ্য ও মিথ্যা বর্ণনা
এর আগে গত ৮ এপ্রিল পুলিশকে জানানো হয় যে নীলেশ জাটভ (২৭) নামের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী রুবি ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় ডাকাতেরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছেন। রুবি প্রথমে পুলিশকে বলেছিলেন, তাঁরা যমনা গ্রাম থেকে খারিকায় ফিরছিলেন। পথে রিদোলি-খারিকা সড়কে তাঁর ব্যাগ পড়ে যায়। পুলিশ সুপার (এসপি) অসিত যাদব বলেন, রুবির দাবি অনুযায়ী তাঁর স্বামী মোটরসাইকেল থামালে তিনি ব্যাগটি তুলতে যান। ঠিক তখন পেছন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি এসে তাঁর স্বামীকে গুলি করে পালিয়ে যান।
তদন্তে সত্য উদঘাটন
তদন্ত চলাকালে রুবির বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর পুলিশ মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়। অসিত যাদব, ভিন্দ জেলা পুলিশ সুপার, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে রুবির বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর পুলিশ মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।
প্রেম ও পূর্বপরিকল্পনা
পুলিশ জানায়, রুবি তাঁর আত্মীয় বিশাল বিমলের সঙ্গে প্রায় সাত বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপ কল ও চ্যাটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। রুবির মনে হয়েছিল, তাঁদের এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী একটি বড় বাধা। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় রুবি নির্দিষ্ট জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ব্যাগটি ফেলে দেন এবং স্বামীকে গাড়ি থামাতে বলেন। নীলেশ গাড়ি থামালে বিশাল ও তাঁর সহযোগী তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন।
গ্রেপ্তার ও জব্দ
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে একটি ১২ বোরের দেশি পিস্তল, খালি কার্তুজ, একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এই অপরাধে সহায়তাকারী রাজেশ কুশওয়াহ নামের অপর একজন এখনো পলাতক। তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ধর জেলার ঘটনা প্রসঙ্গ
সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ধর জেলাতেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এক নারী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন। ওই নারীও প্রথমে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পরে অপরাধ স্বীকার করেন তিনি।



