নোয়াখালীতে ইমামের বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই, সন্দেহ নাশকতার
নোয়াখালীতে ইমামের বসতঘর পুড়ে ছাই, নাশকতার সন্দেহ

নোয়াখালীতে ইমামের বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই, নাশকতার সন্দেহ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহার আগের রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের মাথা গোঁজার একমাত্র বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২৪ থেকে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত ভোররাতে উপজেলার ৪ নম্বর বারগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঈদের আনন্দের মুহূর্তে আগুনে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক তিনটার দিকে হঠাৎ করেই বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দক্ষিণ পিয়ারাপুর মিজি বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুল হাইয়ের বসতঘরসহ ঘরের ভেতরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তা মুহূর্তেই পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই ঘরের সবকিছু পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পর সোনাইমুড়ী থানা পুলিশের একটি দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডকে সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা। তাঁদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতামূলক ঘটনা হতে পারে। তাঁদের এই সন্দেহের পেছনে অন্যতম কারণ হলো, আগুন লাগার সময় ঘরের দরজাসমূহ রহস্যজনকভাবে বাইরে থেকে আটকানো বা লক করা ছিল, যা পুরো ঘটনাটিকে গভীর রহস্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ৪ নম্বর বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা সাঈদ আহমদ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই রহস্যজনক ঘটনার পেছনের প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।

সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. শাহাদাৎ হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, শেষ রাতে ৩টা ৫০ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান এবং তাঁদের একটি ইউনিট ৪টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশদ তদন্ত ছাড়া এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।