যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে দ্রুত কাজ করছে ইরান। একইসঙ্গে আবারও ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে তেহরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
দ্রুত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান যেভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এগিয়েছে, তা মার্কিন গোয়েন্দা মহলকে বিস্মিত করেছে। কারণ, তাদের পূর্ববর্তী ধারণা ছিল এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সময় লাগবে। ইরানের এই দ্রুত অগ্রগতি মার্কিন বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করেছে।
রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা
গোয়েন্দা সূত্রগুলো সিএনএন-কে জানায়, এই সময়সীমা এতটা কমে আসার পেছনে আংশিক কারণ হলো রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে ইরানের পাওয়া সহায়তা। তাদের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, সিএনএন-এর এই প্রতিবেদনটি ‘তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়’।
ইরানের সক্ষমতা ও হুমকি
সূত্রগুলো বলছে, ইরান যেভাবে দ্রুত গতিতে তার অস্ত্রাগার ও সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এগিয়ে যাচ্ছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান এখনও একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই রয়ে গেছে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান নতুন করে শুরু করার বারবার দেওয়া হুমকি বাস্তবায়নও করে, তাহলেও ইরান এই অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে সক্ষম। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া
এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ‘প্রেসিডেন্টের বেছে নেওয়া সময় ও স্থানে যেকোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে’। এই বিবৃতি ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন ইরানের দ্রুত পুনর্গঠনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।



