চট্টগ্রামের রাউজানে পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় শ্বশুরবাড়িতে পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আকতারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে মারধর ও ইলেকট্রিক ডিভাইস দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ডাকাত দলের বিরুদ্ধে।
গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিনা আকতার রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোরাছা ফকিরপাড়ার সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আজম উদ্দীনের স্ত্রী এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মোহাম্মদ ইসমাইলের মেয়ে। তিনি মামলার দ্বিতীয় আসামি। রাউজান পূর্ব গুজরা পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই দীপদাস রায় সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত রোববার রাতে রিনা আকতারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত রাউজানের পশ্চিম গুজরা এলাকায় জহির আহমদের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করে। এ সময় বৃদ্ধ জহির আহমদ, তার স্ত্রী ও নাতিকে নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতরা বিশেষ ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
পরিকল্পিত ডাকাতির নাটক
গৃহকর্তা জহির আহমদ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার পুত্রবধূ রিনা আকতার প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট হওয়ার দাবি করেন। তবে তার আচরণ ও বক্তব্যে সন্দেহ হওয়ায় তিনি থানায় অভিযোগ দেন এবং পরে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রিনার কথিত প্রেমিক পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের বদুমুন্সিপাড়া এলাকার নবাব হোসাইনকে প্রধান আসামি করা হয়।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাটির তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। তদন্তে উঠে আসে, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে রিনা আকতারের সঙ্গে নবাব হোসাইনের দীর্ঘদিনের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণালংকার আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ডাকাতির নাটক সাজায়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক মাসুদ আলম পাটওয়ারী বলেন, তদন্তে রিনা আকতার ও তার কথিত প্রেমিকের সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ ও স্বীকারোক্তির তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।



