রাশিয়ার তেল কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ছাড়: মেয়াদ বাড়লো ১৬ মে পর্যন্ত
রাশিয়ার তেল কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ছাড়, মেয়াদ ১৬ মে

রাশিয়ার তেল কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ছাড়: মেয়াদ বাড়লো ১৬ মে পর্যন্ত

রাশিয়ার আংশিক স্বশাসিত অঞ্চল তাতারস্তানের আলমেতিয়েভস্ক শহরের বাইরে তেল উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও, বৈশ্বিক বাজারে এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি অনুমতিপত্র অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল কেনাবেচার ওপর আবারও এক মাসের ছাড় দেওয়া হয়েছে।

ছাড়ের নতুন মেয়াদ ও শর্তাবলি

অনুমতিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুক্রবার থেকে শুরু করে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সমুদ্রে অবস্থিত জাহাজ থেকে রাশিয়ার তেল ও পরিশোধিত তেলজাত পণ্য কেনা যাবে। এই সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাত্র দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে রাশিয়ার তেল কেনার ওপর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

নতুন এই ছাড়পত্রে ইরান, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত লেনদেনগুলোকে স্পষ্টভাবে বাদ রাখা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার প্রতিফলন ঘটায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী ছাড় ও বৈশ্বিক প্রভাব

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে রাশিয়ার তেল ও তেলজাত পণ্য কেনার ওপর ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল। ১১ এপ্রিল ওই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২০ মার্চ ইরানের তেলের ওপরও একটি ছাড় দিয়েছিল, যার মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বুধবার বলেছিলেন যে ওয়াশিংটন রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা ছাড় এবং ইরানের তেলের জন্য থাকা আরেকটি ছাড় নবায়ন করবে না। তবে শুক্রবারের ঘোষণা এই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বেসেন্ট পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে ইরানের তেলের ওপর ছাড়ের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছেছিল এবং যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজর্স নামক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রেট এরিকসন মন্তব্য করেছেন যে, আবারও ছাড়ের নবায়ন সম্ভবত ওয়াশিংটনের জারি করা শেষ ছাড় নবায়ন হবে না। তাঁর মতে, ‘এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারের স্থায়ী ক্ষতি করেছে, এগুলো স্থিতিশীল করতে যে উপকরণ বা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।’

প্রথম ছাড়ের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছিলেন যে এই ছাড় রাশিয়ার ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেবে, যা সারা বিশ্বে এক দিনে উৎপাদিত তেলের পরিমাণের সমান। নিষেধাজ্ঞা থেকে এই সাময়িক ছাড় বিশ্বে তেলের সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি করতে পারে, কিন্তু ইরান হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আটকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইরান যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করত, যা বর্তমান সংকটে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ছাড় বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অনিশ্চিত রয়ে গেছে।