কুয়েতে গৃহকর্মী হিসেবে এসে মানবিক সংকটের শিকার হওয়া আমেনা খাতুন নামের এক বাংলাদেশি নারীকে দ্রুত উদ্ধার করেছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। বুধবার (১ জুলাই) কুয়েত পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দূতাবাসের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়। দূতাবাসের কাউন্সেলর মো. শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদার জানান, উদ্ধারকৃত আমেনা খাতুনকে নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক জরুরি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে নারী গৃহকর্মী প্রেরণের বিষয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়নি। এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কুয়েতে আসা নারী গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাস কোনো ‘নারী গৃহকর্মী ভিসা’ সত্যায়ন করছে না এবং করবে না।
অবৈধ পথে নারী প্রেরণ ও দালাল চক্র
দূতাবাস গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক বা একাধিক অসাধু চক্র অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে নারী গৃহকর্মী পাঠাচ্ছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে এসে অনেক নারী নির্যাতন, বন্দিদশা ও চরম মানবিক সংকটের শিকার হচ্ছেন। বিগত তিন মাসে এই ধরনের অবৈধ প্রক্রিয়ায় আসা ৭ জন বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীকে দূতাবাসের সহায়তায় উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সতর্কতা ও আহ্বান
দূতাবাস সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার আগে কোনো বাংলাদেশি নারী যেন গৃহকর্মী হিসেবে কুয়েতে না আসেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দালাল চক্রের প্রলোভন ও অপপ্রচার থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রবাসীদের সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করে বলা হয়েছে, কেউ যদি এসব চক্রের সন্ধান পান, তবে তা দূতাবাস বা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে। কুয়েত প্রবাসী সব বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও কল্যাণে দূতাবাস সর্বদা সচেষ্ট।



