আমিরাতে ড্রোন ধ্বংসাবশেষে নিহত প্রবাসী শাহ আলমের মরদেহ দেশে ফিরেছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নিহত প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামে তার নিজ বাড়িতে কফিন ঘিরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবার ও এলাকাজুড়ে।
ঘটনার বিবরণ ও শাহ আলমের পটভূমি
গত ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে দুবাইয়ের হুজাইরাহ আমিরাতের আল-শিফা এলাকায় শাহ আলমের কর্মস্থলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সরাসরি তার ওপর আঘাত হানে, যা তৎক্ষণাৎ তার প্রাণহানি ঘটায়। নিহত শাহ আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের (ভূঁইয়া বাড়ি) মৃত হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রথমবার জীবিকার সন্ধানে তিনি দুবাই যান। সর্বশেষ গত ২০২৫ সালে তিন মাসের ছুটি কাটিয়ে তিনি পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন। চার সন্তানের জনক শাহ আলমের এমন অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় গভীর শোক ও মাতমের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
শোকের পরিবেশ ও দাফন সম্পন্ন
এ বিষয়ে সাহেবাবাদ ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, "শাহ আলমের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে খবর পৌঁছার পর থেকে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।" বাদ আসর তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে, যা এলাকাবাসীর জন্য একটি মর্মান্তিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো অঞ্চলে ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান ঘটনা প্রসঙ্গে। শাহ আলমের পরিবার ও স্বজনরা এখন এই আকস্মিক বিপর্যয় মোকাবিলা করছে, যেখানে সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহানুভূতি তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



