প্রবাসে ঈদ: ল্যাবের চাঁদরাতে মেহেদি, একাকিত্ব আর বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতি
দেশে ঈদের আমেজে রাত জেগে কেনাকাটা, ইফতারের জমজমাট আয়োজন, সাহ্রির সময় মসজিদের ডাকাডাকি—এই সবকিছুই প্রবাসে অনুভব করতে পারিনি। ক্লাস আর ল্যাবের ব্যস্ততাতেই দিন কেটে গেছে। কখনো কখনো রাত আটটা পর্যন্ত ক্লাস করে ঘরে ফিরে একা একা ইফতার করেছি। মায়ের হাতের ইফতারি, চেনা আজানের শব্দ, ভাই-বোনের সঙ্গে সালামি নিয়ে খুনসুটি—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো খুব মিস করেছি। ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সবাই কাঁদছিল, আমিও নিজেকে আটকাতে পারিনি।
বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে মেলবন্ধন
তবে এই প্রবাসজীবনে নতুন কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে। মসজিদে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সঙ্গে ইফতার ছিল খুব উপভোগ্য। নানা দেশের খাবার থাকত, সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করতাম। ঈদের দিন সকালে মসজিদে গিয়ে সবার সঙ্গে নামাজ পড়েছি, যা আমাকে বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অনুভূতি দিয়েছে।
ল্যাবের চাঁদরাতে মেহেদি আয়োজন
ঈদের আগের দিনও ল্যাবে কাজ করেছি। কাজ শেষে চাঁদরাতে মসজিদে মেহেদির আয়োজন ছিল, সেখানে গিয়েছিলাম। অনেক স্বেচ্ছাসেবক আমাদের হাতে মেহেদি দিয়ে দিচ্ছিলেন। সেখানে অনেক বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচয় হলো। মসজিদের পাশে ছোট্ট একটা ঈদমেলার আয়োজনও ছিল, যা প্রবাসে ঈদের আমেজ কিছুটা ফিরিয়ে এনেছে।
দাওয়াত ও পরিবারের সঙ্গে সংযোগ
ঈদের দিন সকালে ক্যাম্পাসের সিনিয়র সাফিয়া আপুর বাসায় আর রাতে আমার ল্যাবমেট ফাহাদ ভাইয়ের বাসায় দাওয়াত ছিল। সেখানে অনেক মজার মজার খাবার খেয়েছি, সময়টা ভালো কেটেছে। বিকেলে লিপি আপুর সঙ্গে কাছের একটা লেকে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সারা দিনই পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলাম। কিছুক্ষণ পরপর আম্মু, আব্বু ফোন করছিল, যেন আমি একা একা মন খারাপ না করি।
উচ্চশিক্ষার পথে বিসর্জন ও আশা
এই ঈদের সবচেয়ে আনন্দের দিক ছিল নিজের উপার্জনের টাকায় পরিবারের জন্য ঈদের শপিং করা, গ্রামের মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করতে পারা। উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেই এই প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছি। কিন্তু এই পথচলায় জীবনের অনেক সুন্দর মুহূর্তকে বিসর্জন দিতে হচ্ছে। তবু আশা রাখি, একদিন আবার পরিবারের সঙ্গে এক হয়ে ঈদ উদ্যাপন করতে পারব। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।



