১৮ দেশের সঙ্গে কর্মী পাঠানোর চুক্তি স্বাক্ষর, মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলতে সরকারি উদ্যোগ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংসদে জানিয়েছেন, কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ১৮টি দেশের সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের মাধ্যমে দেওয়া জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের পর অন্যতম বড় শ্রমবাজার হচ্ছে মালয়েশিয়া। এই শ্রমবাজার পুনরায় খোলার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে এপ্রিল মাসের ৮ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত মাহদী আমিন ও মন্ত্রী নিজে মালয়েশিয়া সফর করেছেন।
মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজার যেমন মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ভাষা শিক্ষা জোরদার
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংসদে জানান, মন্ত্রণালয় এবং জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অধিক হারে কর্মী পাঠানোর উদ্দেশ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ নামে একটি আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে, যা এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের আরেকটি উদ্যোগ হলো এক লাখ ড্রাইভার তৈরির প্রকল্প। ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক এই প্রকল্পের কার্যক্রম বর্তমানে সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যে সকল দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এটি প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মধ্যে পুরুষ কর্মীর পাশাপাশি ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন। এই সংখ্যা বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ও নারী ক্ষমতায়নের ইতিবাচক দিককে নির্দেশ করে।
- ১৮টি দেশের সঙ্গে কর্মী পাঠানোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে
- মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ
- জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ভাষা শিক্ষা জোরদার
- মধ্যপ্রাচ্যে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্যোগ
- ২০২৫ সালে ১১ লাখের বেশি কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান



