তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের চাবিকাঠি থালাপতি বিজয়ের হাতে
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের চাবিকাঠি বিজয়ের হাতে

তামিলনাড়ুর দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের হাতে। বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থন পাওয়ার পর বিজয়ের দল টিভিকে এখন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার পার করার দ্বারপ্রান্তে। তবে বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পরেই রাজ্যে শুরু হয়েছে নাটকীয় ‘রিসোর্ট রাজনীতি’।

বাম দল ও ভিসিকের সমর্থন

কংগ্রেসের পর এবার বিজয়ের দলকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে দুই বামপন্থি দল সিপিআই ও সিপিআই (এম)। এর পাশাপাশি থল তিরুমাভালাভানের নেতৃত্বাধীন ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চিও (ভিসিকে) বিজয়কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন জোটের ফলে বিজয়ের পক্ষে এখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়ক রয়েছে।

রিসোর্ট রাজনীতির নাটকীয়তা

সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দলবদল ঠেকাতে দলগুলো এখন তাদের বিধায়কদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে। হায়দরাবাদের একটি রিসোর্টে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ককে। মূলত অন্য দলের পক্ষ থেকে বিধায়ক ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা রুখতেই এই আগাম সতর্কতা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, বিজয়ের দল টিভিকে-র ১০৮ জন বিধায়ককে আগে থেকেই চেন্নাইয়ের অদূরে মহাবলীপুরমের একটি বেসরকারি রিসোর্টে রাখা হয়েছে। সেখানে জ্যেষ্ঠ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। দলীয় এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনও আতঙ্ক কাটেনি। আমাদের ও কংগ্রেসের সব বিধায়ক যাতে অটুট থাকেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা বারবার পরীক্ষা করছি।’

পিছিয়ে নেই এআইএডিএমকেও। ই পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন এই দলটিও তাদের বিধায়কদের পুদুচেরির একটি রিসোর্টে পাঠিয়েছে, যাতে শেষ মুহূর্তে দলে কোনও ভাঙন না ধরে।

বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্য

রাজনীতিতে নতুন হয়েও বাম দল ও ভিসিকে-র মতো পুরনো দলগুলোর সমর্থন আদায় করা বিজয়ের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জোটের ফলে সরকার গঠনে তার অবস্থান যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবও স্পষ্ট হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভারতে রিসোর্ট রাজনীতির ঐতিহ্য

ভারতে নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হলে রিসোর্ট রাজনীতি একটি চেনা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহের সময় শিবসেনা বিধায়কদের সুরাট ও গুয়াহাটির রিসোর্টে রাখা হয়েছিল, যার ফলে উদ্ভব ঠাকরে সরকারের পতন ঘটে। একইভাবে ২০১৯ সালে কর্ণাটকে কংগ্রেস ও জেডি (এস) বিধায়কদের রিসোর্টে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত কুমারস্বামী সরকারের পতন ঠেকানো যায়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস