ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার শিলিগুড়ি সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল যাওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শিলিগুড়ি আদালতে তোলার পর তাঁকে কলকাতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।
গ্রেপ্তারের পটভূমি
জাহাঙ্গীর খান রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ফলতা থেকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন। ২৯ এপ্রিল ফলতার ভোট গ্রহণ হয়। ওই দিন ফলতা এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস চলে। জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইভিএম মেশিনে অন্য প্রার্থীদের প্রতীকের ওপর সেলোটেপ লাগিয়ে দেন। এসব ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন ফলতার নির্বাচন বাতিল করে ২১ মে পুনর্নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে।
এরই মধ্যে ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। তৃণমূল বিপুল ভোটে বিজেপির কাছে পরাজয় বরণ করে। এরপর জাহাঙ্গীর খান নিজেকে নিরাপদ মনে না করে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচনে প্রচারের জন্য জীবনের সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্ট প্রথমে সুরক্ষা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।
এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞের আগমন
এই পরিস্থিতি দেখতে উত্তর প্রদেশের আইপিএস কর্মকর্তা ও এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ অজয় পাল শর্মা ফলতায় আসেন। তখন জাহাঙ্গীর অজয় পালকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। তিনি নিজেকে 'পুষ্পা' বলে চিহ্নিত করে একহাত দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। জাহাঙ্গীরের একটি বক্তব্য বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে: 'আপনি দাবাং হলে আমি পুষ্পা হব।'
তবে সেই 'পুষ্পা' জাহাঙ্গীর পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে নিজেকে নির্বাচনের ময়দান থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তাই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।
পলায়ন ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনার পর জাহাঙ্গীর খান পালিয়ে থাকেন। তাঁকে ধরতে বিভিন্ন এলাকায় জাল পেতে রাখে পুলিশ। পুনর্নির্বাচনে এই আসনে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী, যিনি ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি ভোট পান। দ্বিতীয় স্থানে আসে সিপিএম প্রার্থী (৪০ হাজারের বেশি ভোট), আর জাহাঙ্গীর খান পান মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট।
আজ গ্রেপ্তারের খবর ফলতায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জাহাঙ্গীরের অফিস ভাঙচুর করা হয়।



