অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী: তামিলনাড়ুতে টিভিকের অভাবনীয় জয়
অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী: টিভিকের ঐতিহাসিক জয়

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে লড়েই বাজিমাত করেছে তামিলনাড়ুর নতুন রাজনৈতিক দল টিভিকে। আর ঐতিহাসিক এই বিজয়ের পর সোমবার প্রথমবারের মতো ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে সশরীরে মাঠে নেমেছিলেন রাজ্যটির নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়ের এই অভাবনীয় নির্বাচনি জয় রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে সরকারের অবসান ঘটিয়েছে, যা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আগে থেকে অনুমান করতে পারেননি।

জনতার ঢল

সোমবার সন্ধ্যায় বিজয় তিরুচিরাপল্লীতে পৌঁছালে হাজারো মানুষের এক বিশাল সমুদ্র তাকে স্বাগত জানায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই তিরুচিরাপল্লী থেকেই তিনি তার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলেন। বিমানবন্দর থেকে বের হতেই অপেক্ষারত জনতা ‘বিজয়! বিজয়!’ স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করে তোলে। এরপর তিনি সেখানে একটি জমকালো পথযাত্রায় অংশ নেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

জনতার তুমুল করতালির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য শুরু করে বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ। এতগুলো বছর ধরে যে দুটি দল আপনাদের ঠকিয়ে এসেছে, আপনারা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। আপনারা আমাকে বিজয়ী করেছেন। এর জন্য আমি আপনাদের সামনে মাথা নত করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ মূলত তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী দুই রাজনৈতিক দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে টিভিকের এই উত্থানের দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিজয়ের দল বর্তমানে একটি জোট সরকার পরিচালনা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘টিভিকে যদি আরও বেশি সমর্থন পেত তবে খুব ভালো হতো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আমি আপনাদের সবার পূর্ণ সমর্থন পাবো। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমি যে ধরনের শাসন উপহার দেব তা আপনারা পছন্দ করবেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্যুট বিতর্কের জবাব

বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে বিজয়ের স্যুট পরা নিয়ে অনবরত খোঁচা দিয়ে আসছিলেন তার রাজনৈতিক বিরোধীরা। আজ সেই সমালোচকদের জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার স্যুটের রং সব সময় সাদা আর কালো হয়। এর পেছনে একটি বার্তা রয়েছে, তা হলো, আমি সবকিছুকে সাদা-কালো (স্বচ্ছ) চোখেই দেখি। ভালো আর মন্দের মাঝে কোনও মাঝামাঝি জায়গা নেই।’

পথযাত্রা

রোডশোটি বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে সেন্ট জোসেফ কলেজ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আধব অর্জুনা, এস রমেশ এবং লোকসভার এমপি দুরাই ভাইকো।

সূত্র: এনডিটিভি