ভারতের বিহারের ভাগলপুরে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত বিক্রমশিলা সেতুর একটি বড় অংশ ভেঙে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় এক অভিনব সমাধান নিয়ে এসেছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দক্ষিণ বিহার ও সিমাঞ্চল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে ভেঙে পড়া অংশের ওপর সাময়িকভাবে একটি বেইলি ব্রিজ বসিয়ে দুই প্রান্তকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একই স্থানে আরও দুটি বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজ চলছে।
৫০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার স্থাপন
সোমবার রাতে বিআরওর একটি দল ভাঙা অংশে ৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৫ মিটার চওড়া একটি গার্ডার সফলভাবে স্থাপন করে। ৪ মে বিক্রমশিলা সেতুর আরসিসি স্ল্যাব ধসে পড়ার পর থেকে ভাগলপুরের সঙ্গে উত্তর বিহারের জেলাগুলোর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিআরও, মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস, আইআইটি এবং বিহার রাজ্য পুল নির্মাণ নিগম লিমিটেডের বিশেষজ্ঞরা সেতুটি পরিদর্শন করে তিনটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে ক্রেন, লোহার ফ্রেম ও ভারী যন্ত্রপাতি ভাগলপুরে আনা হয়। বিআরওর প্রকৌশলী ও মেকানিক্যাল স্টাফসহ প্রায় ১০০ কর্মী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন। ভাগলপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) নবল কিশোর চৌধুরী জানান, বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আগামী ৫ জুনের মধ্যে এই সাময়িক সেতুটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হতে পারে।
তিনটি বেইলি ব্রিজের কাজ শেষ হবে মে মাসের মধ্যে
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মে মাসের শেষ নাগাদ তিনটি বেইলি ব্রিজের কাজই শেষ হবে। চূড়ান্ত নিরাপত্তা ও লোড টেস্টিং পরীক্ষার পর প্রথমে পথচারী ও ছোট যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এই বেইলি ব্রিজটি ২০ থেকে ২৫ টন ওজনের যানবাহন বহনে সক্ষম।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



