নাসার টুলে নিজের নামের প্রথম অক্ষর খুঁজুন মহাকাশের ছবিতে
নাসার টুলে নামের প্রথম অক্ষর মহাকাশ ছবিতে

আপনার নামের প্রথম অক্ষর যদি পৃথিবীর কোনো নদী, পাহাড় বা বনের আকৃতিতে ফুটে ওঠে এবং তা দেখা যায় মহাকাশ থেকে তবে বিষয়টি কেমন হবে? কাল্পনিক মনে হলেও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঠিক এ সুযোগই করে দিয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। ‘ইয়োর নেম ইন ল্যান্ডস্যাট’ নামের অনলাইন টুলের মাধ্যমে এখন যে কেউ মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের ছবিতে নিজের নামের প্রথম অক্ষর দেখতে পারবেন।

ল্যান্ডস্যাট প্রকল্পের সায়েন্স সাপোর্ট টিমের সদস্য রস ওয়াল্টার, অ্যালিসন নাসবাম ও জিঞ্জার বুচার এই বিশেষ টুল তৈরি করেছেন। এটি মূলত ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইটের গত ৫০ বছরের বেশি সময়ের সংগৃহীত তথ্যের একটি বিশাল ভান্ডার। এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে ইংরেজি বর্ণমালার অক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ইংরেজি বর্ণমালার ‘এ’ অক্ষর খোঁজেন, তবে তিনি নরওয়ের লেক মিজোসা বা আলাস্কার ইউকন ডেল্টার এমন সব স্যাটেলাইট ইমেজ পাবেন, যা দেখতে ‘এ’ অক্ষরের মতো। আবার ব্রাজিলের হুমাইতা অঞ্চলের বনাঞ্চল বা আরকানসাসের হোল্লা বেন্ড নদীর বাঁক দিয়ে তৈরি হয়েছে নিখুঁত ‘বি’ অক্ষর। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে কেউ এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের নাম লিখলেই প্রথম অক্ষরের মতো ভৌগোলিক স্থানের ছবি দেখা যাবে।

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বর্ণমালা দিয়ে ইংরেজিতে ‘আশা’ শব্দটি লেখা হয়েছে। আজারবাইজানের লেক গুয়াখমাজ, বলিভিয়ার রিও চাপারে, রাশিয়ার খোরিনস্কি জেলা ও আলাস্কার ইউকন ডেল্টার মতো চারটি ভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নদী, হ্রদ ও বনাঞ্চলের বাঁকগুলো প্রাকৃতিকভাবেই ইংরেজি বর্ণমালার রূপ ধারণ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাসার এই ইন্টারঅ্যাকটিভ পোর্টালে গিয়ে ব্যবহারকারীরা তাঁদের নাম টাইপ করলেই ল্যান্ডস্যাট ইমেজ গ্যালারি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্ষরগুলো যুক্ত হয়ে একটি গ্রাফিক তৈরি করে। ব্যবহারকারীরা চাইলে এই ছবিগুলো ডাউনলোড বা এক্সপোর্ট করতে পারেন। ২০২৫ সালের বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে এই বিশেষ গ্যালারি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এখানে ২৬টি ইংরেজি বর্ণের জন্য একাধিক ভৌগোলিক স্থানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে প্রতিবার নতুন নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ দেয়। নাসা আর্থ অবজারভেটরি, ইউএসজিএস আর্থএক্সপ্লোরার এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল হাবের মতো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এই ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কেবল বিনোদন নয়, সাধারণ মানুষকে স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন করতে চায় নাসা।

ল্যান্ডস্যাট প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা জানান, মহাকাশ থেকে তোলা এসব ছবিতে দেখা যায় কীভাবে প্রাকৃতিক শক্তি এবং মানুষের কর্মকাণ্ড পৃথিবীর রূপ পরিবর্তন করে। নিজের নাম খোঁজার এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ আসলে পৃথিবীর সেসব দুর্গম পাহাড়, হ্রদ বা নদীর সঙ্গেই পরিচিত হচ্ছে, যেখানে হয়তো কোনো দিন তাদের যাওয়া হবে না।