চীনের মহাকাশ স্টেশনে প্রশিক্ষণের জন্য প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের দুই নভোচারী নির্বাচিত
চীনে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি নভোচারী নির্বাচন

চীনের মহাকাশ স্টেশনে প্রশিক্ষণের জন্য প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের দুই নভোচারী নির্বাচিত

চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থা বুধবার একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের দুই নভোচারীকে মহাকাশ মিশনের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে চীনের মহাকাশ স্টেশনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

নভোচারী নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের বিস্তারিত

সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদ নামের এই দুই পাকিস্তানি নভোচারী শিগগিরই চীনের মহাকাশ স্টেশনে প্রশিক্ষণের জন্য ‘রিজার্ভ নভোচারী’ হিসেবে আসবেন। তাদের জন্য একটি কঠোর ও ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু হবে, যেখানে সব ধরনের মূল্যায়ন ও প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে, তাদের মধ্য থেকে একজন পেলোড বিশেষজ্ঞ হিসেবে চূড়ান্ত মহাকাশ মিশনে অংশ নেবেন, যা তাকে চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে প্রথম বিদেশি নভোচারী হওয়ার গৌরব এনে দেবে।

চীন-পাকিস্তান সহযোগিতা চুক্তির পটভূমি

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামাবাদে চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানি নভোচারী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি যুগান্তকারী সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির পর, একটি তিন ধাপের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি তাদের দক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি এবং মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাই করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মহাকাশ কর্মসূচির মাইলফলক হিসেবে গুরুত্ব

চীনের মহাকাশ সংস্থা এই নির্বাচনকে তাদের মহাকাশ কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি চীন-পাকিস্তানের ‘সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আরেকটি সফল উদাহরণ, যা দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই উদ্যোগটি মহাকাশ গবেষণার অর্জনগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিনিময় করার ক্ষেত্রে চীনের উন্মুক্ত মনোভাব ও আগ্রহের প্রতিফলন, যা বৈশ্বিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন তার মহাকাশ প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে, এবং পাকিস্তানের মতো মিত্র দেশগুলোর অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বহুপাক্ষিক মহাকাশ মিশনের পথ প্রশস্ত করবে।