মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের হুঁশিয়ারি ও ইসরায়েলের প্রস্তুতি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের হুঁশিয়ারি ও ইসরায়েলের প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো ধরনের হামলার মুখে তারা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইসরায়েলও সম্ভাব্য ইরানি হামলা মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করছে।

ইরানের অবস্থান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় আমরা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল যদি আমাদের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে আমরা কঠোর জবাব দেব।”

ইরানের এই বক্তব্য এসেছে এমন সময়ে যখন ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইরান দাবি করে, এই হামলায় তাদের কিছু সামরিক উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলের প্রস্তুতি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক জরুরি বৈঠকে সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন, “যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে।” ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

ইসরায়েলের সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি প্রতিশোধ নেয়, তাহলে তা হতে পারে লেবাননের হিজবুল্লাহ বা সিরিয়ায় অবস্থিত ইরানি বাহিনীর মাধ্যমে। তবে ইসরায়েল বলছে, তারা সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসে ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের সঙ্গেই আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “উত্তেজনা হ্রাস এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করছি।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এ অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”

রাশিয়াও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে, “আমরা সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানাই।” চীনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে এবং বলেছে, “মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”