হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত আগ্রাসনের জবাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। সেই সংকটের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার ওই চুক্তিতে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
এর আগে গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘বিশ্বের সব জাহাজ, ইঞ্জিন চালু করো। তেল প্রবাহ আবার শুরু হোক।’ চুক্তির খবর প্রকাশের পর তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তির ঘোষণা আসার পর থেকে গত তিন দিনে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান ও সামুদ্রিক বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে আছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত এবং সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি কতটা স্থিতিশীল হয়, তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে এসব প্রতিষ্ঠান।
হরমুজ প্রণালিতে এখন কী ঘটছে
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। এর প্রায় অর্ধেকই ছিল তেলবাহী ট্যাংকার। এসব ট্যাংকারে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা শুরু হওয়ার পরপরই ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ চালু করে।
রোববার প্রাথমিক চুক্তির ঘোষণা আসার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র সাতটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিক। এসব জাহাজের মধ্যে কয়েকটি ছিল ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার। এগুলো হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ রেখা অতিক্রম করেছে। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকার ট্র্যাকার্স গতকাল জানায়, দুই মাসের মধ্যে এটাই ছিল ইরানের প্রথম অপরিশোধিত তেল রপ্তানি।
এদিকে ৫৫০টির বেশি জাহাজ এখনো প্রণালির দুই পাশে আটকে আছে। উপসাগরীয় জলসীমা দিয়ে চলাচলের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে সেগুলো। ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তবে ভিন্ন কথা বলছেন ইরানি কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, এখনো কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি ইরানের উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত পথ অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে।
জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হচ্ছে না কেন
হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা থাকার আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব মাইন সরিয়ে ফেলা হবে। তবে জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো আশঙ্কায় রয়েছে। তাদের ধারণা, যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সবচেয়ে সরু অংশে প্রণালিটির প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার বা ২০ মাইল। এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং গুলি করেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এর মধ্যে এক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
ঐতিহাসিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ফি দিতে হতো না। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিনা খরচেই এ পথ ব্যবহার করা যেত। তবে যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা আর আগের মতো থাকবে না।
চুক্তির ঘোষণা আসার মাত্র এক দিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ অবরোধের কারণে ১৪২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা না মানা ৯টি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল শুক্রবার চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবু উদ্বেগ কাটেনি। অনেকের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনো সংঘাতের মাঝখানে পড়তে পারে। ডেনমার্কভিত্তিক জিসকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ইকুইটি বিশ্লেষক হায়দার আনজুম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা যথেষ্ট নয়। এ কারণেই এখন পর্যন্ত হরমুজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। জাহাজের অবস্থান জানাতে ব্যবহৃত এআইএস ট্র্যাকারগুলোর তথ্যেও সেটিই দেখা যাচ্ছে।
আল-জাজিরাকে হায়দার আনজুম বলেন, প্রণালিতে লম্বা সময় ধরে কোনো ধরনের হামলা না হলে জাহাজ মালিক ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো আশ্বস্ত হবে, চলাচলের ঝুঁকি যথেষ্ট কমেছে। আর এ জন্য প্রায় চার মাস অপেক্ষা করা লাগতে পারে।
শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান উদ্বেগ কী
মাইন: হরমুজ প্রণালিতে পানির নিচে মাইন থাকার আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই জাহাজ চলাচলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান হুমকি দিয়েছিল, তারা প্রণালিতে মাইন পেতে রাখবে। তবে বাস্তবে তা করা হয়েছে কি না, সেটি কখনো নিশ্চিত করেনি তেহরান। আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য অনুমোদিত নিরাপদ পথের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ওই পথে সম্ভাব্য কোনো মাইন নেই। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে মাইন থাকার ঝুঁকি রয়েছে। সংঘাত চলাকালে তারা বিশেষভাবে ইরানের মাইন পেতে রাখা নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলেও দাবি করেছে।
২ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমার বড় অংশে মাইন পেতে রেখেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। পানির নিচে মাইন থাকার আশঙ্কাই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারণ, কোনো বিমা প্রতিষ্ঠান এমন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা জাহাজের বিমা করতে চায় না। ডেনমার্কভিত্তিক জিসকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ইকুইটি বিশ্লেষক হায়দার আনজুম বলেন, ‘প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হলেও ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো মাইন।’ হায়দার আনজুম বলেন, ‘মাইনমুক্ত একটি নিরাপদ করিডর চিহ্নিত করতে এবং মাইন অপসারণের কাজ শেষ করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।’
ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থনীতিবিদ নাদের হাবিবি আল-জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নাবিকেরা আরও কয়েক সপ্তাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। নাদের হাবিবি আরও বলেন, পানির নিচে থেকে যাওয়া মাইনের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
টোল: ঐতিহাসিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ফি দিতে হতো না। প্রণালিটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিনা খরচেই এ পথ ব্যবহার করা যেত। তবে যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা আর আগের মতো থাকবে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, হরমুজের মতো প্রাকৃতিক প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য সরাসরি টোল আদায় করা যায় না। এমনকি প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় না হলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে প্রণালির পাশের রাষ্ট্রগুলো জাহাজকে দেওয়া বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নিতে পারে। এর মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয়, বিমা বা নোঙর করার সুবিধার মতো সেবা অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের ‘টোল’ আরোপের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের নীতির পরিপন্থী। ইরান অবশ্য বলছে, তারা জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আরোপ করতে চায় না, বরং নিরাপদ যাতায়াতের সমন্বয় ও তদারকির জন্য ফি নিতে চায়। তেহরানের দাবি, প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নয়। তাই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার তাদের রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে গত মে মাসে তারা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করেছে। সংস্থাটি হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম তদারকি করবে।
অর্থনীতিবিদ নাদের হাবিবি বলেন, ‘ইরানের একতরফা ফি আরোপের উদ্যোগের বিরোধিতা করার সম্ভাবনাই বেশি যুক্তরাষ্ট্রের। তবে শুধু এ ইস্যুতে তারা নতুন করে সংঘাত শুরু করতে চাইবে না।’ নাদের হাবিবি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রণালিটি খোলা রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এ বিষয়ে আপাতত তারা নমনীয় থাকতে পারে।’ তবে দীর্ঘ মেয়াদে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে মনে করেন হাবিবি। তাঁর ভাষ্য, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানকে কোনো ধরনের ফি বা টোল আদায়ের সুযোগ দেবে না বলেই মনে হয়। নাদের হাবিবি আরও বলেন, ইরানকে টোল পরিশোধ করা জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও নিতে পারে। তবে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ সহজে ছাড়বে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এটি তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার।
বিমা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথে আরেকটি বড় বাধা হলো বিমা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুদ্ধঝুঁকি সংক্রান্ত বিমার কিস্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে তা এতটাই বেশি হয়ে যায় যে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু বিমা প্রতিষ্ঠান আবার এ ধরনের বিমা পুরোপুরি বন্ধও করে দেয়। ডেনমার্কভিত্তিক জিসকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ইকুইটি বিশ্লেষক হায়দার আনজুম বলেন, সরাসরি হামলা না হলেও বিমার অভাবই জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিতে পারে।
ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থনীতিবিদ নাদের হাবিবি বলেন, শান্তিচুক্তি কত দিন টিকে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিমার খরচও আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হায়দার আনজুম আল-জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধের তীব্রতায় বিমার কিস্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এখন তা কিছুটা কমলেও স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় অনেক বেশি। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই উচ্চ হার বহাল থাকতে পারে। হায়দার আনজুম জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে একটি জাহাজ একবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য যুদ্ধঝুঁকিসংক্রান্ত বিমার কিস্তি সাধারণত জাহাজের মূল্যের প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল। যুদ্ধ চলাকালে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে পৌঁছায়। জাহাজ কোন দেশের, তার ওপরও হার কিছুটা নির্ভর করত। বর্তমানে সেই হার কমে ১ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে।
জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ গত সোমবার প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি একে নাবিক ও জাহাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কার্যকর করতে সময় লাগবে। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও ধীরে ধীরে এগোবে।



