মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার জন্য তেহরানের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে ইরান ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে রাজি হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর তাদের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না।
ট্রাম্পের প্রস্তাব ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ঢুকে বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খননকাজ শুরু করবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসবে। তিনি ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’-এর কথাও উল্লেখ করে বলেন, শিগগিরই তা উদ্ধার করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, এই ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
অন্যদিকে, ইরানের দাবি হলো, তারা শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে। ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা কখনো ভাবা হয়নি এবং ইরানের মাটি যেমন পবিত্র, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তির সম্ভাবনা ও নৌ-অবরোধ
ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে। তিনি মনে করেন, চুক্তিটি খুব দ্রুতই হতে পারে এবং উভয় পক্ষ খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে, যা সম্ভবত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হতে পারে। চুক্তি হলে ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কাজ করছে। ইরানের কাছে ৯০০ পাউন্ডেরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সবচেয়ে জটিল ইস্যুগুলোর একটি হলো তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
অর্থের লেনদেন বিষয়ে অস্বীকার
এদিকে, ২ হাজার কোটি ডলার নগদ অর্থের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম চুক্তির যে খবর ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কোনো অর্থের লেনদেন হচ্ছে না। ইরানের মুখপাত্র বাঘাইও হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা ইরানের। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে যোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো নৌ-অবরোধের চেষ্টা করা হলে ইরান তার উপযুক্ত জবাব দেবে এবং এ ধরনের অবরোধ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।



