ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দাবি: কূটনৈতিক চাপে ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বাধ্য
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক টেলিভিশন ভাষণে দাবি করেছেন যে প্রবল কূটনৈতিক চাপের মুখে ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের অন্যান্য ফ্রন্টে আক্রমণ করার কোনো অধিকার ইসরাইলের নেই। এই সংকটে ‘ইরানের মর্যাদা ও গর্ব’ অক্ষুণ্ণ রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা পরিচালনায় একনিষ্ঠ সহযোগিতার জন্য তিনি পাকিস্তানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
ইরানের শান্তি প্রচেষ্টা ও পারমাণবিক নীতি
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি এবং দেশটি এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অশান্তি বা সন্ত্রাসবাদ চায় না। তিনি বলেন, তেহরান আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। ইরান তার নীতি ও অবস্থানের বিষয়ে সর্বদা অটল থাকবে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরিষ্কারভাবে বোঝা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচনা
ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা পরিকল্পিতভাবে সামরিক কমান্ডার, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং শিক্ষার্থীদের হত্যার মাধ্যমে ইরানসহ পুরো অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক সংকটে তার কূটনৈতিক ভূমিকা জোরদার করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভাষণটি ইরানের পররাষ্ট্র নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



