ইসরাইলের মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার চাঞ্চল্যকর বক্তব্য: ইরানে শাসন পরিবর্তনই মূল লক্ষ্য
ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইরানের তেহরানে তাদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন। সোমবার (১৪ এপ্রিল) জেরুজালেমে ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। বার্নিয়া স্পষ্টভাবে জানান, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় মোসাদ সরাসরি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অপারেশন চালিয়েছে।
মোসাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা
বার্নিয়া দাবি করেন, মোসাদের দেওয়া নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘাঁটিগুলো ইসরাইলের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হামলা বা লড়াই শেষ হলেও মোসাদের মূল মিশন এখনো শেষ হয়নি। বার্নিয়া স্পষ্ট করে জানান, তেহরানে বিমান হামলার পরবর্তী সময়ের জন্যও তারা নিবিড় পরিকল্পনা করে রেখেছেন।
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও শাসন পরিবর্তনের ডাক
মোসাদ প্রধানের মতে, বর্তমান অভিযানটি কেবল সাময়িক কোনো সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনের অংশ। তিনি আরও জোরালো ভাষায় বলেন, ইরানে বর্তমান চরমপন্থী শাসন ব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত মোসাদের দায়িত্ব শেষ হবে না। বার্নিয়া মনে করেন, এই শাসনের পরিবর্তন নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান মিশন।
অস্তিত্বের সংকটের মুখে ইসরাইল আর কখনো হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মোসাদ প্রধানের এই সরাসরি ‘শাসন পরিবর্তনের’ ডাক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে ইরান-ইসরাইল সম্পর্কে নতুন মোড় নিতে পারে।
সূত্র হিসেবে টাইমস অব ইসরাইলকে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ঘটনার প্রামাণিকতা নিশ্চিত করে। বার্নিয়ার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ইরানের প্রতিক্রিয়া এখনো অপেক্ষমান।



