ওভাল অফিসে ট্রাম্পের 'কড়া ধমক': মার্কিন দূতের বক্তব্যে নেতানিয়াহু প্ররোচনার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন
ট্রাম্পের 'কড়া ধমক': মার্কিন দূত নেতানিয়াহু প্ররোচনার অভিযোগ উড়ালেন

ওভাল অফিসে ট্রাম্পের 'কড়া ধমক': মার্কিন দূতের বক্তব্যে নেতানিয়াহু প্ররোচনার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ওভাল অফিসে 'কড়া ধমক' দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তিনি সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক পোস্টের 'পড ফোর্স ওয়ান' অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

প্ররোচনার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

ওয়াল্টজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নিশ্চিতভাবে মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী'। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামাতে প্ররোচিত করেছেন এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি আরও যোগ করেছেন, 'এক মুহূর্তের জন্যও কারও বিশ্বাস করা উচিত নয় যে কোনো বিশ্বনেতা, উপদেষ্টা বা অন্য কেউ ওভাল অফিসে ঢুকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রভাবিত করছেন'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওভাল অফিসের সেই মুহূর্ত

ওয়াল্টজ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, 'আমি নিজে সেই কক্ষে উপস্থিত ছিলাম যখন তিনি 'বিবি'কে (নেতানিয়াহুর ডাক নাম) কড়া কথা শুনিয়েছিলেন'। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নেতানিয়াহুকে দিয়ে ট্রাম্প ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে 'গভীর অনুশোচনা' প্রকাশ করিয়েছিলেন।

এই হামলার লক্ষ্য ছিল কাতারের মধ্যস্থতায় চলা জিম্মি আলোচনার সময় হামাস নেতৃত্বকে আঘাত করা। যদিও ইসরাইলি কর্মকর্তারা পরে স্বীকার করেছেন যে, হামাস নেতাদের হত্যা করতে এই হামলা ব্যর্থ হয়েছিল। এই ঘটনায় কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন নিহত এবং চারজন আহত হন।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের জটিলতা

যদিও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান, তবুও অতীতে ট্রাম্প মাঝেমধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় স্বীকার করে নেওয়া
  • ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার অভিযান থেকে সরে আসার অভিযোগ

এই বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাম্প বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

ওয়াল্টজ 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চলাকালীন ইরানের বিচ্ছিন্ন হামলা সত্ত্বেও আমেরিকার উপসাগরীয় মিত্রদের 'শক্ত অবস্থানে' থাকার প্রশংসা করেছেন। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ইরানের 'সব দিকে হামলা করার নীতি' দীর্ঘমেয়াদে তাদের জন্যই বুমেরাং হবে।

তিনি কাতারের উদাহরণ টেনে বলেন:

  1. কাতার আগে ইরানের সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র শেয়ার করার কারণে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখত
  2. কিন্তু এখন ইরান তাদের হাসপাতাল, হোটেল, বন্দর ও বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পর কাতার ইরানকে 'ঘোষিত শত্রু' হিসেবে গণ্য করছে

আঞ্চলিক ঐক্যের ইঙ্গিত

ওয়াল্টজ আরও উল্লেখ করেছেন যে, কয়েক মাস আগে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত থাকলেও এখন তারা 'পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ'। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘে ইরানকে নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

মজার বিষয় হলো, রাশিয়া ও চীন সেই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার সুযোগ পেলেও তারা তা করেননি। এই ঘটনা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে কতটা বিচ্ছিন্ন তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে বলে মনে করেন ওয়াল্টজ।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন ইরান নীতিতে ট্রাম্পের একক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।同时, এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কের জটিল প্রকৃতিও ফুটিয়ে তুলেছে।