ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের হামলার শিকার সংযুক্ত আরব আমিরাত
ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

হামলার বিবরণ

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান তাদের লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং একটি সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আমিরাত ফুজাইরাহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ইরানি ড্রোনের কারণে একটি প্রধান তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ভারতের তিন নাগরিক আহত হয়েছেন। এদিকে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে দুটি মালবাহী জাহাজে আগুন লেগেছে।

ট্রাম্পের উদ্যোগ ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের অধীনে মার্কিন পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করার পরই এই হামলার ঘটনা ঘটলো। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের এই নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারলে তা যেমন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্বেগ কমাবে, তেমনি তেহরানের বড় একটি প্রভাব খাটানোর সুযোগও কেড়ে নেবে। তবে এ ধরনের প্রচেষ্টা পুনরায় সর্বাত্মক সংঘাত উসকে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে; যেমনটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথমে ইরানে হামলা চালানোর পর শুরু হয়েছিল এবং ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই হরমুজ প্রণালিটি ইরান কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার একটি ‘উন্নত নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির কথা জানিয়ে জাহাজগুলোকে ওমানের জলসীমা দিয়ে প্রণালিটি পার হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তবে নতুন করে এই হামলার খবরের পর জাহাজ কোম্পানিগুলো এবং তাদের বিমাকারীরা এই ধরনের ঝুঁকি নেবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ ইরান এই জলপথে জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এবং তা অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগ গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার পর মার্কিন পতাকাবাহী ওই দুটি জাহাজ এখন নিরাপদে নিজেদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো (ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ) সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলোও এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে যুদ্ধজাহাজগুলো কখন সেখানে পৌঁছেছে কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কখন রওনা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই অবরুদ্ধ জলপথ দিয়ে জাহাজগুলোকে পার করে দেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন তিনি সতর্ক করেছিলেন যে জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়ার যেকোনও ইরানি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্ভাগ্যবশত জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানকে একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা শত শত জাহাজের নাবিকদের সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ওইসব জাহাজের ক্রুরা জানিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের শুরুর দিকে তারা জলপথের ওপর দিয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হতে দেখেছেন। বর্তমানে তাদের জাহাজে পানীয় জল, খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগকে তার বিকারগ্রস্ততার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে।