মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই মানচিত্রটি জনসমক্ষে আনে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মানচিত্রের বিবরণ
প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, ইরান তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে একটি সুনির্দিষ্ট রেখা চিহ্নিত করেছে। এই সীমানাটি ইরানের মাউন্ট মুবারক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরার দক্ষিণ প্রান্তের মধ্যবর্তী একটি কাল্পনিক রেখা দিয়ে শুরু হয়েছে। অন্যপ্রান্তে এটি ইরানের কেশম দ্বীপের শেষ অংশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুয়াইন পর্যন্ত বিস্তৃত। ইরান দাবি করছে, এই চিহ্নিত এলাকার অভ্যন্তরে তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
হরমুজ প্রণালির এই সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই মানচিত্র প্রকাশের ফলে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সাথে তেহরানের সম্পর্কের টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এই মানচিত্র প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দেশ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই পদক্ষেপকে একটি পাল্টা কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।



