ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ৩৪ ট্যাঙ্কারের চলাচল: ভর্টেক্সা
ইরানে মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ৩৪ ট্যাঙ্কারের চলাচল

ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ৩৪ ট্যাঙ্কারের চলাচল: ভর্টেক্সা

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা কঠোর অবরোধ উপেক্ষা করে অন্তত ৩৪টি ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে কার্গো ট্র্যাকিং গ্রুপ ভর্টেক্সা। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার ইরানি তেল পরিবহন করছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বিরাট সাফল্য' দাবির বিপরীতে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ খবর জানিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের নতুন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে।

অবরোধের পটভূমি ও মার্কিন পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের নতুন ধাপে তেহরানকে শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করতে গত ১৩ এপ্রিল সকাল থেকে ইরানি উপকূলীয় জলসীমায় প্রবেশ বা বের হওয়া সব জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনীর এক নোটিশে এই নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বাড়ানো হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত ২৮টি জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। এছাড়া ওমান উপসাগরে একটি কন্টেইনার জাহাজ আটক এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি অনুমোদিত ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যা তাদের কঠোর নীতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি ও বাস্তবতার পার্থক্য

সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, অবরোধটি বিরাট সফল হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে 'চূড়ান্ত চুক্তি' না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি থেকে এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। তবে ভর্টেক্সার তথ্য বলছে, কয়েক ডজন জাহাজ এই অবরোধ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যা ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে, অন্তত ১৯টি ইরানি ট্যাঙ্কার অবরোধ এড়িয়ে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে গেছে এবং ১৫টি ট্যাঙ্কার আরব সাগর থেকে ইরানের দিকে প্রবেশ করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্তত ছয়টি ট্যাংকারে মোট ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল ছিল, যা ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভর্টেক্সার প্রতিবেদনটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির মার্কিন কৌশলের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।