মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা একটি ‘দীর্ঘ এবং কঠিন’ প্রক্রিয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
হামলার পরবর্তী অবস্থা
ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, গত জুন মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো খুঁড়ে বের করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং জটিল কাজ। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পারমাণবিক ধূলিকণা
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং হামলার পর অবশিষ্ট পারমাণবিক উপাদানগুলোকে ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ বা নিউক্লিয়ার ডাস্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও হামলার পর তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি
মার্কিন বোমা হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ এলাকার পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। ম্যাক্সার টেকনোলজিসের স্যাটেলাইট চিত্রে হামলার পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে, যা ট্রাম্পের দাবির সাথে কিছুটা বৈপরীত্য তৈরি করে।
মিডিয়া সমালোচনা
নিজের পোস্টে ট্রাম্প গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘ফেক নিউজ’ সিএনএন এবং অন্যান্য মিডিয়া নেটওয়ার্কের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই অভিযানে অংশ নেওয়া বৈমানিকদের যথাযথ কৃতিত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা সাফল্যকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে। ট্রাম্প তার বিরোধীদের এবং সমালোচনাকারী মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘পরাজিত’ বলে সম্বোধন করেন।
উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের হাতে থাকা পারমাণবিক উপাদানগুলো। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে, যদিও তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শান্তি আলোচনার বাধা
ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের এই অমীমাংসিত বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বললেও ওয়াশিংটন চাচ্ছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।



