কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে শত্রুপক্ষের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক বিশেষ বিবৃতির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কুয়েত সেনাবাহিনীর বিবৃতি
কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে দেশজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শত্রুর ওই হামলাগুলো মাঝআকাশে সফলভাবে ধ্বংস করারই ফল। তবে এই হামলাগুলো ঠিক কোথা থেকে বা কোন দেশ থেকে চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে কুয়েতের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে কর্তৃপক্ষের দেওয়া সব ধরনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন বিমান হামলার প্রেক্ষাপট
বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরপরই কুয়েত সেনাবাহিনীর তরফ থেকে এই সতর্কবার্তা এল। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের একটি বিশেষ ড্রোন অভিযানকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে, কারণ ওই অভিযানটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
এদিকে ইরানও মার্কিন হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তারা একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর আগে ভোরে ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম হামলাটি চালিয়েছিল। তবে ইরান কোন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তাদের এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি চালিয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি।
কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটি ও উত্তেজনা
উল্লেখ্য, কুয়েতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি রয়েছে। তবে চলমান এই উত্তেজনার মাঝে ইরানই সরাসরি কুয়েতের জন্য হুমকি তৈরি করছে কিনা সে সম্পর্কে দেশটির সরকার এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের যৌথ হামলার পর কুয়েতসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি
গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হলেও সম্প্রতি ইরাক থেকে সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে নতুন করে ড্রোন ছোড়ার ঘটনা ঘটছে। সূত্র: রয়টার্স



