ওমানে চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু, মাকে জানানো হয়নি
ওমানে চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু, মাকে জানানো হয়নি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে চার সন্তানের মৃত্যুর খবরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। তবে অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে এখনও জানানো হয়নি তার চার ছেলের মৃত্যুর সংবাদ।

নিহতরা কারা

ওই চার জন হলেন– মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজার পাড়া এলাকার মরহুম আবদুল মজিদের ছেলে। পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার জনই ওমানে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। আরেক ভাই মো. এনাম দেশে রয়েছেন। বেশ কয়েক বছর আগে তাদের বাবা মারা যান। পরিবারে আছেন বৃদ্ধা ও অসুস্থ মা।

মাকে গোপন রাখা হয়েছে

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, চার ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও তাদের মাকে জানানো হয়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। একসঙ্গে চার সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনলে বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে পারবেন না বলেই তার কাছে বিষয়টি গোপন রেখেছে পরিবার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃত্যুর ঘটনা

স্বজনরা জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে ওমানের আল মিলিদ্দা আল মোছানা, স্টেট অব আল বাতিনাহ এলাকায় একটি পার্কিংয়ে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।

নিহতের ছোট ভাই মো. এনাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার চার ভাই ওমানে থাকে। এরমধ্যে দুজন এক সঙ্গে থাকলেও বাকি দুজন পৃথক স্থানে থাকেন। এরমধ্যে আমার বড় দুই ভাই সিরাজ ও শহিদের শুক্রবার (১৫ মে) দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে এসে বিয়ে করবেন এ কারণে তাদের জন্য কনে দেখা হচ্ছিল। তারা রাশেদ ও শাহেদকে সঙ্গে নিয়ে মার্কেটে কেনাকাটা করতে বের হয়। পথে নাকি একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খায়। খাবারে বিষক্রিয়ায় নাকি, গাড়ির এসি বিস্ফোরণ কীভাবে মারা গেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, বিষয়টি ওই দেশের পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে তারা নিশ্চই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, সিরাজ ও শহিদের দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। তাদের বিয়ের আয়োজন নিয়েও ব্যস্ত ছিল পরিবার। হঠাৎ এমন ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।

পরিবারের অবস্থা

পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই মো. রাশেদ বিবাহিত ছিলেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাই সাহেদ সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। সিরাজ ও শহিদ নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। সেই স্বপ্ন এখন শুধুই শোক আর কান্না হয়ে ফিরে আসছে পরিবারে।