মায়ামির সমুদ্রসৈকতে পা রাখতেই চোখ আটকে যায় একদল আর্জেন্টাইন সমর্থকের দিকে। নিজেদের মতো করে আড্ডা, গান আর পানীয় নিয়ে উৎসবের আমেজ। কাছে গিয়ে দেখা যায়, তাদের একজন ব্যস্ত একটি বিশেষ পানীয় তৈরিতে। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি জানান, তিনি তৈরি করছেন লাতিন আমেরিকার জনপ্রিয় পানীয় ইয়ারবা মাতে—যেটি নিয়মিত পান করেন লিওনেল মেসিও।
টিকিটহীন সমর্থকদের আক্ষেপ
অনেকটা গ্রিন টির মতো এই পানীয় নিয়ে নিজেদের মতো সময় উপভোগ করলেও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মনে রয়েছে একটি আক্ষেপ—অনেকেরই হাতে নেই ম্যাচের টিকিট। বিশ্বকাপ উপলক্ষে মায়ামিতে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা থেকে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি। তবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচকে সামনে রেখে শুধু বুয়েনস আয়ারস থেকেই অন্তত ৫০ হাজার সমর্থক মায়ামিতে এসেছেন। তাদের অনেকের কাছেই ম্যাচের টিকিট নেই। তবু প্রিয় দলের পাশে থাকতে তারা ছুটে এসেছেন।
সমুদ্রসৈকতে মাতে তৈরি করা সেই ফ্রাঙ্কোর কাছেও নেই ম্যাচের টিকিট। তবু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি টিকিটের আশায় আছেন তিনি। ফ্রাঙ্কো বলেন, ‘আমরা অনেকেই এসেছি মেসিদের খেলা দেখতে। কিন্তু টিকিট পাচ্ছি না। অনেক চেষ্টা করেও মিলছে না। তাই সবাই মিলে সমুদ্রপাড়ে আনন্দ করছি, দলের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। মাতে পান করছি। মেসিসহ আর্জেন্টিনার অনেকেই এটা পান করেন। খেলার টিকিট পাই বা না পাই, সময়টা উপভোগ করতেই এসেছি।’
মেসির মাতে: সংস্কৃতির অংশ
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এক হাতে ট্রফি আর অন্য হাতে ইয়ারবা মাতের কাপ নিয়ে মেসির সেই ছবি এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত। সমর্থকদের কাছে মাতে শুধু একটি পানীয় নয়, সংস্কৃতিরও অংশ। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে একই কাপ থেকে চুমুক দিয়ে মাতে পান করা সেখানে সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। তবে মাতে যতই তাদের সংস্কৃতির অংশ হোক, এখন মায়ামিতে হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় নকআউট পর্বের ম্যাচের টিকিট।
এএফএ সভাপতির স্বীকারোক্তি
ম্যাচের আগে টিকিট সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কনমেবল সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি জাতীয় দলের খেলা দেখতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ টিকিট ছাড়াই এখানে এসেছেন। যত বেশি সম্ভব মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবাই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।’
অনেকে কালোবাজারে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন না। তবে সৌভাগ্যবানদেরও দেখা মিলেছে। মেসিদের হোটেলের সামনে দেখা হওয়া ফার্নান্দেজ পরিবারের পাঁচ সদস্যই আগেভাগে অনলাইনে টিকিট নিশ্চিত করেছেন। ফার্নান্দেজের ছেলে গনজালেস বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম। জানতাম শেষ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতি হতে পারে। বাবা-মা আর আমরা তিন ভাইবোন মিলে এসেছি। নকআউট পর্বের ম্যাচ দেখতে পারবো, এ জন্য নিজেদের ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’
স্টেডিয়ামের বাইরেও উৎসব
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৬৫ থেকে ৮০ হাজার দর্শক। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে এর বড় অংশই থাকবে আকাশি-সাদা জার্সিধারী সমর্থকদের দখলে। আর স্টেডিয়ামের বাইরে, ফ্যান জোনে এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবেন আরও হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক। সব মিলিয়ে মেসিদের ঘিরে এখন যেন আর্জেন্টিনার রঙে রাঙা মায়ামি।



