কলম্বিয়ায় গত রোববার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে এখন দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই দফায় মুখোমুখি হবেন ট্রাম্পভক্ত ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা এবং দার্শনিক থেকে সিনেটর বনে যাওয়া বামপন্থী নেতা ইভান সেপেদা।
প্রথম দফার ফলাফল
কলম্বিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম দফার নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে ইভান সেপেদা পেয়েছেন ৪১ শতাংশ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীরা তাঁদের তুলনায় অনেক কম ভোট পেয়েছেন। যেহেতু কোনো প্রার্থীই এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে পারেননি, তাই নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়িয়েছে।
আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা
৪৭ বছর বয়সী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করতে পেরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পপন্থী এই নেতা একজন আইনজীবী, গায়ক ও পোশাক ব্যবসায়ী। তিনি নিজেকে ‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচয় দেন। কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘প্রয়োজনে আমি কলম্বিয়ার জন্য নিজের জীবনও উৎসর্গ করব।’
নির্বাচনী সহিংসতা
কলম্বিয়ায় এবার নির্বাচনী প্রচারের সময়টা অনেক বেশি সহিংস ছিল। এ সময় গাড়িবোমা হামলা, ড্রোন হামলা এবং একজন শীর্ষ প্রেসিডেন্ট প্রার্থীসহ অনেক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ইভান সেপেদার প্রতিক্রিয়া
শুরুতে মনে করা হচ্ছিল, বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদা নির্বাচনে এগিয়ে থাকবেন। তবে তা হয়নি। তিনি নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবে জালিয়াতির অভিযোগ করেননি। ২১ জুন দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেপেদা ওই নির্বাচনে ‘চরম ডানপন্থা’–কে হারিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে মাফিয়া ও ধনী প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে।
আবেলার্দোর ‘শক প্ল্যান’
বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা একটি ‘শক প্ল্যান’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে। নির্বাচনী প্রচারের সময় বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসপ্রিয়েলা বলেছিলেন, ‘আমরা সঙ্গে সঙ্গেই মাদক ও সন্ত্রাসী শিবিরগুলোয় বোমা হামলা শুরু করব।’ এসপ্রিয়েলার এই কঠোর বার্তা অনেক ভোটারের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শান্তিচুক্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি
ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির পর কলম্বিয়ায় গত এক দশকে সংঘাত কমেছে। তবে এখনো কিছু এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ আছে। এসব গোষ্ঠী কোকেনের রুট নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ সোনার খনি পরিচালনা এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ধরে রেখেছে।
ইভান সেপেদার অবস্থান
বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদা বলেছেন, তিনি এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিচুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে চান। তাঁর এ অবস্থান বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ‘পূর্ণ শান্তি’ নীতির অংশ। ইভান সেপেদার বয়স ৬৩ বছর। তিনি একজন বামপন্থী সিনেটরের ছেলে, যার বাবা ডানপন্থী আধা সামরিক গোষ্ঠীর হাতে নিহত হন। সেপেদা কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সমর্থন পেয়েছেন। দরিদ্রদের সহায়তা করার কারণে সরকারের প্রতি আস্থা রাখা ভোটারদের বড় একটি অংশ তাঁর পক্ষে রয়েছে। সমর্থকেরা সরকারের কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন—যেমন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা, শিক্ষা খাতে বেশি ব্যয় করা এবং দরিদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি বিতরণ। তবে অনেক সমর্থকের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে, কারণ সেপেদা প্রথম দফার নির্বাচনে প্রথম হতে পারেননি, দ্বিতীয় স্থানে আছেন।



