ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধগুলো আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ করাই এই প্রস্তাবের লক্ষ্য বলে ইরানের সরকার সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও সংশয়
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন যে, তিনি যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন। একই সঙ্গে এই প্রস্তাব কোনও চুক্তির দিকে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব
ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা নূর নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা পরিকল্পনার জবাবে দেওয়া ইরানের এই প্রস্তাবে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই জবাব পাঠিয়েছে। এর আগেও পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে। পাকিস্তানের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি কথা বলার জন্য উৎসাহিত করছেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করেননি।
ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি বজায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ওমানের ভূমিকা
এদিকে রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির সঙ্গে কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক লড়াই শুরু হওয়ার আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পূর্ববর্তী দফার আলোচনাগুলো তদারকি করেছিলেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা
অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টও একটি নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের অবস্থান অটল
ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার রবিবার বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাদের অবস্থান থেকে পিছপা হবে না এবং এটি যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের কাছাকাছি অবস্থিত কৌশলগত লারেক দ্বীপের বন্দর পরিদর্শনকালে আলী নিকজাদ এ মন্তব্য করেন। তবে সংসদে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনও ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের। যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ব্যবসা ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কাজ চলছে এবং ট্রাম্পের অবরোধ পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে। নিকজাদ ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন যেকোনও জাহাজ টোল প্রদানের মাধ্যমে এই প্রণালি পার হতে পারবে। তবে নিরাপদ পারাপারের জন্য ইরানকে ডিজিটাল সম্পদসহ যেকোনও মাধ্যমে অর্থ প্রদান করলে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রণালি বন্ধ ও নৌ অবরোধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর জাহাজে হামলা ও হুমকি দিয়ে ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তেহরান কিছু জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছাকাছি রুট দিয়ে নিরাপদ পারাপারের প্রস্তাব দেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফি আদায় করে। এর জবাবে গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে তেহরান তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় তেলের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্র: এপি



