ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নিঃসঙ্গতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নিজেকে এক নিঃসঙ্গ সৈনিকের মতোই অনুভব করছেন। এক সময়ের শোরগোল ফেলা সমর্থকেরা এখন নীরব। ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন তিনি, কিন্তু ইরানের আত্মমর্যাদা ও নিজের মান বাঁচানোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারছেন না।
জনসমর্থন কমেছে
সর্বশেষ জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩৩ থেকে ৩৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। সিএনএনের জরিপে তা ৩৫ শতাংশ। মার্কিন জনগণ ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নিজের দলের অন্তত ১৫ শতাংশ সমর্থক এখন তাঁর ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
মিত্ররা চুপ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি পিট হেগসেথ, এমনকি উগ্রবাদী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মতো ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও এখন চুপসে গেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজেকে যুদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছেন।
পোপের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা
ট্রাম্প পোপ লিওর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২২ শতাংশ ক্যাথলিক নাগরিক পোপকে ধর্মগুরু মানেন। ভ্যান্স নিজেও ক্যাথলিক। এই বিতর্ক রিপাবলিকান পার্টির জন্য নেতিবাচক।
শান্তি চুক্তির পথ
ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চান, যাতে তিনি নিজেকে জয়ী ঘোষণা করতে পারেন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ওবামার করা চুক্তির মতো একটি সমঝোতা বিবেচনা করছেন। ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। কিন্তু ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, 'তারা ইরানের আত্মসমর্পণ চায়, ইরানিরা শক্তির কাছে নতিস্বীকার করবে না।'
ইতিহাসের শিক্ষা
ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা খারাপ। প্রেসিডেন্ট জনসন ৩৬ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। জর্জ বুশ ৩৫ শতাংশে 'মিশন অ্যাকমপ্লিশড' ব্যানার টানিয়েছিলেন। এখন ট্রাম্পেরও সেই ম্যাজিক নম্বর স্পর্শ করার সময় এসেছে।
উপসংহার
ট্রাম্পের উচিত 'অভিযান সফল' ব্যানার টানিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা এবং নেতানিয়াহুর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা। ইরান যুদ্ধ তাঁকে নিঃসঙ্গ করে ফেলেছে।



