অন্তর্বাস পরিয়ে গ্রেফতারকৃত তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্যে হাঁটানোর অভিযোগে বিতর্ক
অন্তর্বাস পরিয়ে তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্যে হাঁটানো বিতর্ক

‘একটি ছবি হাজার শব্দের সমান’ এই প্রবাদটি যেন বাস্তবে রূপ দিয়ে দেখাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত তিনজন গ্রেফতারকৃত স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকে শুধু অন্তর্বাস পরিয়ে পুলিশ পাহাড়ায় রাস্তায় হাঁটাতে দেখা গেছে। গ্রেফতারকৃত এই তিনজনই পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাসিন্দা।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারদের মধ্যে একজনকে অন্তর্বাস পরা অবস্থায় রাস্তায় হাঁটানো হয়, আরেকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের পাহারায় নেওয়া হয়। অন্য এক ভিডিওতে সাবেক হোমগার্ড সদস্যকে গলায় দড়ি বেঁধে এলাকাজুড়ে ঘোরানো হয়।

পুলিশের ব্যাখ্যা

পুলিশের দাবি, এর মধ্যে এক অভিযুক্তকে অপরাধস্থল পুনর্গঠন ও তদন্তে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কথিত চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশনগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল কংগ্রেস এ ধরনের প্রকাশ্যে ঘোরানোর ঘটনাকে আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দলটির দাবি, এটি ‘সার্কাসের প্রদর্শনীর’ মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

হাওড়ার উত্তরাঞ্চলে ‘ডন’ আকাশ সিংকে গ্রেফতারের পর গোলাবাড়ি ও মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ তাকে অপরাধস্থল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এলাকাজুড়ে নিয়ে যায় বলে জানানো হয়। তার বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক নিক্ষেপের অভিযোগও আছে। অন্যদিকে হাওড়ার শিবপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্ড সভাপতি শামিম আহমেদকে হাতকড়া পরিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরানোর ভিডিও ছড়িয়েছে। অভিযোগ, তিনি একাধিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া দক্ষিণ হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় সাবেক হোমগার্ড সাইফিন মোল্লাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নেতার সমালোচনা

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ ধরনের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এটি আইন ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির লঙ্ঘনের মতো আচরণ। তিনি আরও বলেন, কঠোর অপরাধীকেও বাজারে দড়ি বেঁধে ঘোরানো আইনসম্মত নয়। সরকার যদি সার্কাসের লোকদের মতো আচরণ করে, তবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

আইনশৃঙ্খলা অভিযান

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, রাজ্যজুড়ে চলমান আইনশৃঙ্খলা অভিযানের অংশ হিসেবেই তৃণমূল কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেফতার চালানো হচ্ছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গ্রেফতার হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে