যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে জানিয়েছেন, তাকে ‘বোকা’ বলে অপমান করা তিনি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেন। তবে কেউ যদি তাকে ‘মেধাবী একনায়ক শাসক’ বা স্বৈরশাসক বলে সম্বোধন করে, তাহলে তার কোনো আপত্তি নেই। শুক্রবার (২২ মে) নিউইয়র্কে এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মানসিক দক্ষতা প্রমাণে বিশেষ পরীক্ষা
৭৯ বছর বয়সি এই রিপাবলিকান নেতা তার মানসিক দক্ষতা নিয়ে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে চিকিৎসকের কাছে বিশেষ পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। নিউইয়র্কের সমাবেশটি মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর আলোচনার জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ট্রাম্প একপর্যায়ে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে বিতর্ক এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কথোপকথনের দিকে চলে যান।
‘আমিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ যাবৎকালের দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নিশ্চয়ই একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইবে। সমালোচকদের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিনি বলেছিলেন যে তাকে মেধাবী একনায়ক বলা হলেও তার আপত্তি নেই, কিন্তু বোকা বলাটা তিনি মেনে নিতে পারেন না।
কগনিটিভ পরীক্ষায় সাফল্য
পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি একটি কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় দক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেন। ট্রাম্প দাবি করেন, এই পরীক্ষাটি সাধারণত বেশ কঠিন এবং খুব কম সংখ্যক মানুষই এতে সফল হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার এই কগনিটিভ পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের জন্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলকের দাবি
গত মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করার আগে প্রত্যেকের এই পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। নিজের তিন মেয়াদের শাসনকালে তিনি তিনবার এই পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ সফল হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের মতো ডেমোক্র্যাট নেতাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে খোঁচা দেন।
বিশেষজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
তবে ট্রাম্পের এই পরীক্ষা দেওয়ার দাবি নিয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হেনরি ডেভিড আব্রাহাম জানান, এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনবার এমন পরীক্ষা দেওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। মূলত ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত ‘মনট্রিল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট’ পরীক্ষার কথাই ট্রাম্প বারবার বলছেন বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. জন গার্টনারের মতে, ট্রাম্পের মানসিক দক্ষতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং তার আচরণে মানসিক অসুস্থতার স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞদের এমন নেতিবাচক মন্তব্যের বিপরীতে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্যের প্রশংসা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম তীক্ষ্ণ ও দূরদর্শী কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।



