ইরান যুদ্ধের কারণে তাইওয়ানে ১৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান যুদ্ধের কারণে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের একটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের মজুত ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন নৌ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাও।

স্থগিতাদেশের কারণ

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক শুনানিতে হাং কাও বলেন, 'এ মুহূর্তে আমরা সাময়িক বিরতি দিচ্ছি, যেন এপিক ফিউরি অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ আমাদের হাতে থাকে। যদিও আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে।' তিনি আরও বলেন, 'সবকিছু নিশ্চিত করা হচ্ছে। পরে প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বিদেশে আবারও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি শুরু হবে।'

অনুমোদন প্রক্রিয়া

হাং কাও জানান, তাইওয়ানের কাছে এই অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অনুমোদন পেলে এটি হবে তাইওয়ানের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হস্তান্তর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটভূমি

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর সংঘাত আপাতত থেমে আছে, তবে স্থায়ী চুক্তি হয়নি। এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেস তাইওয়ানের জন্য নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল, যা কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। এই চুক্তি গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প অনুমোদিত ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রেকর্ড ভাঙা প্যাকেজকেও ছাড়িয়ে যাবে।

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর দেশ অস্ত্র কেনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্থগিতাদেশ তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে উদ্বেগ ও সন্দেহ বাড়াবে, যা ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া কঠিন করে তুলতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের অবস্থান

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে বলেন, তিনি এই অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন 'করতেও পারেন, আবার না-ও করতে পারেন'। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই প্যাকেজকে 'আলোচনার হাতিয়ার' হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রে বহু দশক ধরে বেইজিংয়ের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনা না করার কূটনৈতিক রীতি প্রচলিত।

কূটনৈতিক প্রভাব

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরোধিতা করে। ট্রাম্প তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং তের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন, যা গত চার দশকের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে দেবে। ২০১৬ সালে নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প তাইওয়ানের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, তবে তা শপথ নেওয়ার আগে।