তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিপ্লবী গার্ডের একটি দল সাধারণ ইরানিদের একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল চালানো শেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় হামলার মুখে দেশ রক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় আধঘণ্টার প্রশিক্ষণ
হাফত-ই তির স্কয়ারে প্রায় আধঘণ্টা ধরে এক সেনা সদস্য বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ এবং কালাশনিকভ রাইফেলের অংশবিশেষ জোড়া-খোলা পদ্ধতি দেখান। তার পেছনে ইলাস্ট্রেটেড বোর্ড স্থাপন করা হয়।
গত কয়েকদিনে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক প্রশিক্ষণ বুথ স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে সাধারণ মানুষ যাতে অস্ত্র চালাতে পারে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।
৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধে তেহরান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
গার্ড সদস্য নাসের সাদেঘি বলেন, "নারী-পুরুষ সবার কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলছে। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী।" তিনি উল্লেখ করেন, দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই সেশনে সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশ নিচ্ছে।
সাদেঘি জানান, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো "শহীদি সংস্কৃতি ও নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব তৈরি করা"। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেয়ির কথা উল্লেখ করেন, যিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায় নিহত হন।
এখন পর্যন্ত শুধু অ্যাসল্ট রাইফেলের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও, সাদেঘি বলেন, "ঈশ্বর ইচ্ছা করলে, আগামী দিনে উচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অন্যান্য অস্ত্রও প্রশিক্ষণে আনা হবে।"
প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন সামান্য সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুরুষ এবং চাদর পরিহিতা নারী, যাদের কেউ কেউ ইরানি পতাকার হেড ও রিস্ট ব্যান্ড পরেছেন। শিশু-কিশোররাও অলোড রাইফেল নিয়ে ছবি তুলছে।
যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুধুমাত্র এক দফা সরাসরি আলোচনা হয়েছে, যা শান্তি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর দুই পক্ষ স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব বিনিময় করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি পরের দিন ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে তা স্থগিত করেন।
তেহরানে সরকার সমর্থকরা প্রায় প্রতিরাতে দেশাত্মবোধক সমাবেশ করছেন। যুদ্ধের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
৪০ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী ফারদিন আব্বাসি বলেন, "ঈশ্বর ইচ্ছা করলে, আমরা এই প্রশিক্ষণ শত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারব।"
৪৭ বছর বয়সী গৃহিণী ফাতেমা হোসেইন-কালান্তর কালো চাদর পরে প্রশিক্ষণে এসেছেন। তিনি বলেন, খামেনেয়ির প্রতিশোধ নিতেই তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
"আমরা আমাদের শিশু-কিশোরদের সঙ্গেই এনেছি যাতে তারা সামরিক প্রশিক্ষণ দেখে। যখন আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় নেতা আদেশ দেবেন, আমরা সবাই মাঠে নামব," তিনি বলেন।
প্রশিক্ষণ বুথের পাশে চা, মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবার স্টেশন রয়েছে। লাউডস্পিকার থেকে বক্তৃতা, সংগীত ও নিহত কমান্ডারদের স্মরণে গান প্রচার করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি কালো চাদর পরিহিতা নারীদের সারিবদ্ধভাবে রাইফেল জোড়া-খোলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও এই প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছে। তারা এক গার্ড সদস্যকে স্টুডিওতে এনে টিভি উপস্থাপককে রাইফেল চালানো শেখাচ্ছে।
হাফত-ই তির স্কয়ারে তিন সন্তানের মা ৩৯ বছর বয়সী মাহনাজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ত্র চালানো শেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
"আমার মতে, আমেরিকা আমাদের জন্য যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে তারা নারী, শিশু, বৃদ্ধ-যুবক কাউকেই রেহাই দেয় না, সেখানে অন্তত শুটিং শেখা আমাদের মানবিক কর্তব্য। যাতে প্রয়োজনে আমরা সহজেই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারি," তিনি বলেন।



