চীন সফরে খালি হাতে ফিরলেন ট্রাম্প, উপহার ফেলে দেওয়ার নির্দেশ
চীন সফরে খালি হাতে ফিরলেন ট্রাম্প, উপহার ফেলে দিলেন

ব্যবসায়িক চুক্তি ও বিরল খনিজ নিয়ে বড় বড় চুক্তি করার আশা নিয়ে চীনে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সয়াবিন আর বোয়িং বিমানের চুক্তি ছাড়া আক্ষরিক অর্থেই খালি হাতে বেইজিং ছাড়তে হয়েছে তাকে। শুধু তাই নয়, শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প এবং তার দল যখন এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে বেইজিং ত্যাগ করেন, তখন তাদের সঙ্গে চীনের কোনও জিনিসই ছিল না; এমনকি কোনও স্মারকও নয়।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা এবং মার্কিন সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত পুরো প্রতিনিধি দলটি বেইজিংয়ের দেওয়া প্রতিটি উপহার বিমানের কাছে রাখা একটি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে যান। অবশ্য এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বেইজিং সফরকারী মার্কিন প্রতিনিধি দলগুলো বছরের পর বছর ধরে এই একই নিয়ম অনুসরণ করে আসছে। তবে এবার দুই দিনের সফর শেষে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বার্নার ফোন, ল্যাপেল ব্যাজ, প্রেস ইনভাইটেশন ও স্মৃতিস্মারকসহ সবকিছু যেভাবে মার্কিন প্রতিনিধি দল সবার সামনে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছে, তা ছিল একদম প্রকাশ্য।

এর একমাত্র কারণ চীনা গুপ্তচরবৃত্তি বা ট্র্যাকিংয়ের যেকোনও সম্ভাবনা নস্যাৎ করা। কারণ আড়িপাতার কৌশলের জন্য চীনের খ্যাতি রয়েছে এবং আমেরিকার সঙ্গে তাদের এই গুপ্তচরবৃত্তির খেলা লোককাহিনীর মতো চর্চিত। মার্কিন প্রতিনিধি দলের জন্য নির্দেশ ছিল অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্ত, চীনের কোনও জিনিস বিমানে নেওয়া যাবে না। বিমানের র্যা ম্পের কাছে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা কর্মী এবং সিক্রেট সার্ভিস এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্ট এমিলি গুডিন এই তথ্য জানান। এক টুইট বার্তায় গুডিন লিখেছেন, আমেরিকান কর্মীরা চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সবকিছু যেমন ক্রেডেনশিয়াল, হোয়াইট হাউস স্টাফদেরকে দেওয়া বার্নার ফোন, প্রতিনিধি দলের জন্য দেওয়া পিন; সব সংগ্রহ করে আমরা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগেই সিঁড়ির নিচে রাখা একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। চীন থেকে আসা কোনও কিছুই বিমানে তোলার অনুমতি ছিল না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকৃতপক্ষে, গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই উদ্বেগের বিষয়টিই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। মার্কিন অবকাঠামোতে সাইবার হামলার বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এটা একটা সাধারণ বিষয়, কারণ আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।

নিরাপত্তা প্রোটোকলের অংশ হলেও এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় তুলেছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক জুরগেন নাউডিট ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, চীনই একমাত্র দেশ যার কাছ থেকে ট্রাম্প কোনও ঘুষ বা উপহার গ্রহণ করবেন না।