লেবাননে ইসরাইলের 'অনন্ত অন্ধকার' অভিযান: ১০ মিনিটে ১০০ স্থানে হামলা
লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী 'অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস' বা 'অনন্ত অন্ধকার' নামে এক ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে দেশটির একশতটিরও বেশি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে তিনশত জন নিহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ধ্বংসযজ্ঞ
গত ১৬ এপ্রিল দশ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসরাইলি বাহিনী তা পুরোপুরি উপেক্ষা করে চলেছে। বুধবার, ১৫ এপ্রিল বৈরুতের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় পাঁচ নারী ও এক শিশু প্রাণ হারান, যারা দক্ষিণ লেবাননের সংঘাত থেকে বাঁচতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ইসরাইল সাধারণত শিয়া-প্রধান অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করলেও এবার তারা সমগ্র লেবাননজুড়ে 'কার্পেট বোম্বিং' কৌশল অবলম্বন করেছে, এমনকি বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির নিকটবর্তী বেসামরিক এলাকাগুলোও রেহাই পায়নি।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের পর এবার তৃতীয়বারের মতো লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অভিযান চলছে। ইতিহাসবিদদের বিশ্লেষণ অনুসারে, এই অভিযানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো লেবাননের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে বাস্তুচ্যুত করা। 'অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস' নামটি ইঙ্গিত করে যে ইসরাইল এই সংঘাতকে দীর্ঘমেয়াদী করতে আগ্রহী।
বর্তমান সংঘাতের ফলে লেবাননে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকা রয়েছেন। বিশ্লেষকরা ইসরাইলের এই সামরিক কৌশলকে গাজায় সংঘটিত গণহত্যার সাথে তুলনা করছেন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ভূমি দখলের চেষ্টা এবং নিয়মিত আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা দেশটির ভবিষ্যৎকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরিসংখ্যান
আল জাজিরার কলামিস্ট ও বিশিষ্ট লেখিকা বেলেন ফার্নান্দেজ এই অভিযানকে 'ইসরাইলের উন্মত্ত ধ্বংসলীলা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরের সাত মাসেও ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ২৫০ লেবাননি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইল কখনোই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী সঠিকভাবে মেনে চলেনি।
লেবাননে চলমান এই সংঘাত শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। ইসরাইলের এই 'সাইকোপ্যাথিক' হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে মানবিক সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।



