লেবাননে যুদ্ধবিরতি: হিজবুল্লাহর পাঁচ শর্ত ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
হিজবুল্লাহর ৫ শর্তে লেবাননে যুদ্ধবিরতি

লেবাননে যুদ্ধবিরতির জন্য হিজবুল্লাহর পাঁচটি শর্ত

লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন থামাতে এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবন্ধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হিজবুল্লাহ পাঁচটি শর্ত উপস্থাপন করেছে। দেশটির প্রতিরোধ বাহিনীর মহাসচিব শেখ নাইম কাশেম শনিবার রাতে প্রকাশিত এক বার্তায় এই শর্তগুলো তুলে ধরেন এবং লেবানন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

হিজবুল্লাহর শর্তসমূহের বিস্তারিত বিবরণ

কাশেমের বক্তব্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া পাঁচটি শর্ত নিম্নরূপ:

  1. আকাশ, স্থল ও সমুদ্রে আগ্রাসন বন্ধ: লেবাননের বিরুদ্ধে সব ধরনের আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
  2. ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার: ইসরাইলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত লাইনে ফিরে যেতে হবে।
  3. বন্দি মুক্তি: আটককৃত সকল বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
  4. সীমান্তবাসীর প্রত্যাবর্তন: সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের তাদের শহর ও গ্রামে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
  5. পুনর্গঠন কার্যক্রম: আন্তর্জাতিক ও আরব সহায়তায় পুনর্গঠন কাজ শুরু করতে হবে, যা জাতীয় দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

প্রসঙ্গত, ম্যাসব্যাপী যুদ্ধের পর ইসরাইল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় কার্যকর হয়। কাশেম তার বার্তায় ইরানের সহায়তার প্রশংসা করেন এবং লেবাননে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ‘অভূতপূর্ব পারফরম্যান্সের’ জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে এক লাখ সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও যোদ্ধারা ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতো না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাশেম আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রতিরোধ বাহিনী শত্রুর ওপর ভরসা করে না এবং যুদ্ধবিরতির কোনো লঙ্ঘন হলে তারা যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন কাঠামোর মধ্যে লেবানন সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতার জন্য হিজবুল্লাহর প্রস্তুতির কথা জানান।

যুদ্ধবিরতির শুরুতে আনন্দ মিছিল ও উদ্যাপনের শব্দ শোনা গেলেও, সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও শর্তগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।