ইরান হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ ঘোষণা, মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে উত্তেজনা
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ, মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা

ইরান হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ ঘোষণা, মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে উত্তেজনা

ইরান গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ ঘোষণা করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধের প্রতিবাদে। এর আগের দিন প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও নতুন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি বৈঠককে অনিশ্চিত করে তুলছে।

ইরানের নৌবাহিনীর গুলি ও নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহাল

হরমুজ বন্ধ ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ইরানের নৌবাহিনী প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টাকালে দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। আগের দিন থেকে ১২টির বেশি ট্যাংকারসহ তিনটি জাহাজ পার হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খতম আল-আম্বিয়া বিবৃতিতে মার্কিন অবরোধকে 'জলদস্যুতা' আখ্যা দিয়ে বলেছে, এ কারণেই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনায় থাকবে।

ট্রাম্পের হুমকি ও আলোচনার অনিশ্চয়তা

ইরানের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ভাগ্য নিয়ে লুকোচুরি খেলে তারা ওয়াশিংটনকে জিম্মি করার চেষ্টা না করুক। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু তারা আমাদের জিম্মি করতে পারবে না।' এদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, সমঝোতার রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন অবরোধ ও ইরানের শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঢুকতে বা বের হতে যাওয়া জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ক্যানবেরা আরব সাগরে টহল দিচ্ছে, এবং এখন পর্যন্ত ২৩টি জাহাজ মার্কিন নির্দেশ মেনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরমুখী ও ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে। ভবিষ্যতে প্রণালি খুলে দিলে জাহাজগুলোকে ট্রানজিট সার্টিফিকেট ও নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও শান্তিরক্ষীদের ওপর আক্রমণ

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বাইত লিফ, কান্তারা ও তুলিন শহরে কামানের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের সেনারা বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি ধ্বংস ও ভূমি সমান করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। একই দিনে, লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ হিজবুল্লাহকে দায়ী করলেও গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও নতুন প্রস্তাব

প্রায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক ব্যর্থ হয়, এরপর ট্রাম্প অবরোধ ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরের পর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে, কিন্তু ইরান কোনো আপস করবে না বলে উল্লেখ করেছে। যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর তেহরান।