ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ: ছয় দিনে ২১টি জাহাজ ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির পর গত ছয় দিনে পারস্য উপসাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে অন্তত ২১টি বাণিজ্যিক জাহাজ ফেরত পাঠিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অবরোধের প্রভাব ও জাহাজ ফেরত পাঠানো
সেন্টকোমের বার্তায় বলা হয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে আরব সাগর, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি এলাকা থেকে এসব জাহাজকে ইরানের বিভিন্ন বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। জাহাজগুলো ইরানের বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে রওনা হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারির কারণে তাদের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার-এর ছবিও প্রকাশ করা হয়, যা আরব সাগরে টহল দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি অবরোধ কার্যক্রমের কঠোরতা নির্দেশ করে।
অবরোধ জারির পটভূমি
এর আগে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরদিন ১২ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় না আসে, তাহলে এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো জাহাজ ইরানি বন্দর ত্যাগ করে বাইরে যেতে পারবে না এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে কোনো জাহাজ ইরানের বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই অবরোধ ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গুরুতর প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল পরিবহনের একটি প্রধান রুট হওয়ায়, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন বাহিনীর এই কার্যক্রম ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এই সংকটের সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে হবে নাকি সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



