ইরানের কৌশলগত বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বজায় থাকলে তেহরান 'প্রতিশোধমূলক' ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে এই নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে মার্কিন অবরোধ এখনই প্রত্যাহার করা হবে না।
মার্কিন অবস্থান ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর এক 'এক্স' (সাবেক টুইটার) বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ বজায় রাখে, তবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না এবং যথাযথ পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বক্তব্যের রেশ ধরে মুখপাত্র বাঘাই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
ইরানের ঘোষিত শর্তাবলি
- পূর্বনির্ধারিত পথ: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে অবশ্যই ইরানের নির্দেশিত ও নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে।
- প্রতিশোধের হুমকি: বন্দরগুলোর ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ জারি থাকলে ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
- প্রণালির অভিভাবক: ইরান নিজেকে হরমুজ প্রণালির 'অভিভাবক' হিসেবে দাবি করে জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা নমনীয়তা দেখাতে প্রস্তুত, তবে তা একতরফা হবে না।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, এবং এখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইরানের এই হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের বৈরিতারই একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খবরটি প্রথমে আল জাজিরা প্রকাশ করেছে, এবং এখন এটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এই অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।



