হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা নিয়ে চীনের গুরুতর সতর্কতা
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কখনোই স্থিতিশীল থাকবে না। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে সতর্কবার্তা
ওয়াং ই সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে এক টেলিফোন আলোচনায় এই সতর্কতা উচ্চারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচল ইরান যুদ্ধের একটি পরোক্ষ প্রভাবের মধ্যে পড়েছে এবং যুদ্ধ চলমান থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। একইসঙ্গে তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য জোরালো আহ্বান জানান, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।
পাকিস্তান-চীন যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির দাবি
এর আগে, মঙ্গলবার বেইজিংয়ে পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এই দাবি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায় যে, সংঘাতের প্রভাব কেবল স্থানীয় নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহ ও বৈশ্বিক প্রভাব
বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত, তাই এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। চীন শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে, যা তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে তুলছে।
ওয়াং ই-এর এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



