যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী স্বীকার: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নয়

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী স্বীকার: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, যাঁকে যুদ্ধমন্ত্রীও বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করতে পারে না। এটি গত ১৯ মার্চের পর তাঁর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি, যেখানে তিনি এই বক্তব্য দেন।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বৈপরীত্য

হেগসেথের এই বক্তব্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি বৈপরীত্য তৈরি করেছে। হোয়াইট হাউস বারবার ইরানকে ‘আসন্ন হুমকি’ বলে বর্ণনা করে আসছে। যদি ইরান সত্যিই হুমকি না হয়, তবে কেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে—এই প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘তেহরানের সক্ষমতার বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে নিজেদের সম্পদ ও মিত্রদের রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন আশা করছেন, ইউরোপীয় মিত্ররাও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা

হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতেও পারবে না। এগুলো কেবল মিত্রদেশ এবং অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছাতে সক্ষম।’ তিনি এও উল্লেখ করেন যে, যখন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা চায়, তখন তারা প্রায়শই প্রশ্ন, বাধা আর দ্বিধার সম্মুখীন হয়।

‘এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, আপনি কোনো জোট গঠন করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনার প্রয়োজনের সময় অন্যান্য দেশ আপনার পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছুক হয়,’ বলেন হেগসেথ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি দাবি

হেগসেথের এই বক্তব্যের আগের দিন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে যুক্তরাজ্যের কাছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি লেখেন, ‘কিছুটা সাহস দেখান, হরমুজ প্রণালিতে যান এবং শুধু সেটির নিয়ন্ত্রণ নিন। নিজের জন্য কীভাবে লড়াই করতে হয়, সেটা আপনাদের এবার শেখা শুরু করা উচিত।’

অর্থনৈতিক প্রভাব ও যুদ্ধকৌশল

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা অনেক মার্কিন নাগরিকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল পণ্যমূল্য কমানো, কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা নিয়ে তিনি প্রায়ই তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনকে কটাক্ষ করেন।

এদিকে, ইরান ধরে নিচ্ছে যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা কমে আসবে। তারা ইতিমধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। হেগসেথ বলেন, ‘ইরানকে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেই বার্তা দিয়েছেন, ব্যবসার জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিন, অথবা আমাদের হাতে একাধিক বিকল্প আছে এবং আমরা নিশ্চয়ই এটা করব।’

বিকল্প নিয়ে অস্পষ্টতা

তবে হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কী কী বিকল্প আছে, তা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। বরং তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি কী করতে চাইছেন বা কী করবেন না, তা শত্রুকে বলতে যাবেন না এবং আপনি কখন থামতে চান, সে কথাও আপনার শত্রুকে বলবেন না।’

এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে, যেখানে কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলগুলো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল।