ইরানের হামলায় কুয়েতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত, ভারতীয় নাগরিক নিহত
ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ সোমবার নিশ্চিত করেছে যে, এ ঘটনায় সেখানে কর্মরত এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে এক ভারতীয় কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং প্ল্যান্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
ইরান এই হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রচার করেছে। কুয়েত সিটি থেকে আল-জাজিরা জানিয়েছে, এক মাস আগে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত নিয়মিতভাবে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় তাদের আকাশসীমায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোন একটি সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, যেখানে ১০ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের দাবি ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এক মাস ধরে চলা ইসরায়েল ও মার্কিন হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও অন্তত ২১৬ জন শিশু রয়েছে। এর জবাবে ইরানি বাহিনী ইসরায়েলসহ যেসব আঞ্চলিক দেশে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম বা ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কুয়েতের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোর ওপর হামলা আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।



