লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ: ইরানের হামলায় ইসরাইলের ১০০ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু
লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইরানের হামলা, ইসরাইলের ১০০ স্থাপনা

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইরানের ব্যাপক হামলা: ইসরাইলের শতাধিক স্থাপনা ধ্বংস

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডা. আলী লারিজানির হত্যার প্রতিশোধে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরাইলের ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) আইআরজিসির এক বিবৃতিতে এই হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হামলার পটভূমি ও উদ্দেশ্য

সোমবার (১৬ মার্চ) ইসরাইলি হামলায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব ডা. আলী লারিজানি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর ৬১তম ধাপে এই ব্যাপক হামলা পরিচালনা করে। আইআরজিসির বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই হামলা বিশেষভাবে লারিজানির শাহাদাতের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য পরিচালিত হয়েছে।

ব্যবহৃত অস্ত্র ও লক্ষ্যবস্তু

এই তীব্র ও আকস্মিক হামলায় ইরান তাদের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • মাল্টি-ওয়ারহেড খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্র
  • কদর ক্ষেপণাস্ত্র
  • এমাদ ও খেইবার শেকান প্রজেক্টাইল

এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে ইসরাইলের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. তেল আবিবের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা
  2. পবিত্র অধিকৃত শহর আল-কুদস (জেরুজালেম)
  3. অধিকৃত হাইফা বন্দর
  4. ইসরাইলের প্রযুক্তিগত কেন্দ্র বিয়ের শেবা
  5. নেগেভ মরুভূমির কৌশলগত স্থাপনা

হামলার ফলাফল ও প্রভাব

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলার ফলে ইসরাইলের অত্যন্ত উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুসারে, হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিবে আংশিক ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে, যা দখলদার বাহিনীর জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে।

এছাড়াও, অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪-এ এখন পর্যন্ত ২৩০ জনেরও বেশি জায়নবাদী নিহত বা আহত হয়েছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। এই হামলা কেবল ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ নেই; কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও একই সময়ে তীব্র প্রতিশোধমূলক হামলার মুখে পড়েছে।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

এই প্রতিশোধমূলক হামলা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক যৌথ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছে। ইরান দাবি করছে যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব অবৈধভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে, এবং এই হামলা তারই একটি পাল্টা জবাব। বর্তমান সংঘাতের ১৭তম দিনে এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই হামলার সফলতাকে জায়নবাদী শাসকের বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পতন হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ইরানের সামরিক ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।