ইরানের সামরিক বাহিনীতে বেতন বিলম্বে অসন্তোষ, পদত্যাগ ও মনোবলহীনতা বৃদ্ধি
ইরানের সামরিক বাহিনীতে বেতন বিলম্বে অসন্তোষ ও পদত্যাগ

ইরানের সামরিক বাহিনীতে বেতন বিলম্বের সংকট: অসন্তোষ ও মনোবলহীনতা বৃদ্ধি

ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে বেতন বিলম্বের কারণে অসন্তোষ, মনোবলহীনতা, আর্থিক চাপ এবং পদত্যাগের ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির বাহিনীর মধ্যে এই সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বেতন বিলম্বের ধারাবাহিকতা ও প্রভাব

শুক্রবার ইরানের স্পেশাল ইউনিট কমান্ডের সদস্যদের একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে কিছু ইউনিটের বেতন পরিশোধে সমস্যা তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি চলতি বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বেতন বিলম্বের ঘটনা, যা সামরিক বাহিনীর মধ্যে আর্থিক চাপ এবং অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেতনের ধারাবাহিক বিলম্বের কারণে কিছু সেনা সদস্য সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্বে যোগ দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই অস্বীকৃতির ফলে ইরানের বড় শহরগুলোতে সেনা মোতায়েন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একই সময়ে, রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইরানে পেনশনপ্রাপ্ত এবং কিছু সেনা সদস্যের বেতনও টানা দ্বিতীয় মাস ধরে পরিশোধ করা হয়নি, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপ

দেশটির কিছু সিনিয়র কমান্ডার অভিযোগ করেছেন যে আইআরজিসি রাষ্ট্রায়ত্ত 'ব্যাংক সেপাহ'-এ চলমান আর্থিক সংকটকে ব্যবহার করে ইরানের পুলিশ বাহিনীকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। এছাড়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে বলে তাদের দাবি। এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন সামরিক বাহিনীর স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা অনেক দেশের কড়া নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অতর্কিত হামলা শুরু হওয়ায় টানা ১৮ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর দশায় নিয়ে গেছে। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই সামরিক বাহিনীর বেতন না পাওয়ার প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে, যা ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই সংকট সামরিক বাহিনীর মনোবলকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। ইরানের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।