ইরানের সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ব্যবহার: যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা
ইরানের সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ব্যবহার, যুদ্ধের ১৬তম দিনে হামলা

ইরানের সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ব্যবহার: যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা

ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো লক্ষ্য করে সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও শক্তি

ইরানের তৈরি সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা সাজিল, আশৌরা ও আশুরা ক্ষেপণাস্ত্র নামেও পরিচিত। কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের কারণে এটি দ্রুত প্রস্তুত ও উৎক্ষেপণযোগ্য, যা তরল জ্বালানিব্যবস্থার শাহাব সিরিজের তুলনায় একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়।

  • পাল্লা: প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে।
  • ওজন: প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কেজি এবং ১৮ মিটার লম্বা।
  • বোমা বহন ক্ষমতা: প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের বোমা বহন করতে সক্ষম।

অনেক উঁচু দিয়ে ওড়ার সময়ও এ ক্ষেপণাস্ত্র পথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে, যার জন্য এটিকে ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বা ‘নাচুনে ক্ষেপণাস্ত্র’ বলে ডাকা হয়ে থাকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উন্নয়ন ও পরীক্ষার ইতিহাস

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার কাজ শুরু হয়। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে প্রথম এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শুরু হয়, যা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল। দ্বিতীয় উৎক্ষেপণটি করা হয় ২০০৯ সালের মে মাসে।

২০০৯ সালের পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির আরও চারটি ফ্লাইট পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে। ষষ্ঠ পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে পৌঁছায়। এবার ইরান যুদ্ধের ১৬তম দিনে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আগ্রাসন চালানোর পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরও ব্যাপক আকারে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে, যার বেশির ভাগই ইরানি। পেন্টাগন বলেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ১৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লড়াই চলাকালে পেন্টাগন ওই অঞ্চলে ইউএসএস ত্রিপোলি নামের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে, যাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন মেরিন সেনাও মোতায়েন করা হয়েছে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে, এবং সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইরানের সামরিক শক্তির একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।