গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে স্বামীর মৃত্যুর পর অধিকার আদায়ে কবরের পাশে আশ্রয় নেওয়া এক নারীর দুই সন্তান অবশেষে গ্রাম্য সালিশে জমি পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। শুক্রবার বিকালে স্বামীর বাড়ির পাশে একটি খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত সালিশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
নিহত সুজন মাহমুদ (৩৮) ওই গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। তার স্ত্রী সোনিয়া বেগম (৩২) এর সঙ্গে দুই সন্তান রয়েছে—একটি ৯ বছরের মেয়ে ও দেড় বছরের ছেলে। শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে তিনি দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
গত ২২ এপ্রিল 'বাবার কবরের পাশে শিশুর আর্তনাদ আমরা খাবো কি যাব কোথায়' শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে এ ঘটনা প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অবস্থান
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কফিল উদ্দিনের সচ্ছল পরিবার থাকলেও তার ছেলে সুজন মাহমুদ অসুস্থ থাকার পরও তিনি চিকিৎসা করাতেন না। অসুস্থ অবস্থায় সম্প্রতি তার মৃত্যু হয়। সুজনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকেও শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই দেওয়া হচ্ছিল না।
সোনিয়া বেগমের অভিযোগ, সচ্ছলতা থাকার পরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুজনের যথাযথ চিকিৎসা করাননি, যার ফলে ধুঁকে ধুঁকে তার মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নামতে হয়। তার দাবি, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাড়িতে আশ্রয় দিতে রাজি নন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও তার শ্বশুর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিবেদন হওয়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শুক্রবার বিকালে নিহত সুজনের বাড়ির পাশে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে একটি গ্রাম সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সালিশে সিদ্ধান্ত হয়, দুই সন্তানের নামে ৬ শতাংশ জমি লিখে দেওয়া হবে। বৈঠকে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছান উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম, তারেক জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান, সাংবাদিক একেএম শিশিরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছান উদ্দিন জানান, ওই নারীর দুই সন্তানের নামে ৬ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করা হবে।



