ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনাটি ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। খামেনির মৃত্যু ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেজা পাহলভির 'উপশম' মন্তব্য ও ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজা পাহলভি এই ঘটনাকে একটি 'উপশম' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানের ফলে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হতে পারে। ১৯৮৯ সালের বিপ্লবের সময় ইরানে তার বাবার রাজতন্ত্র উৎখাত হয়েছিল, এবং সেই সময় থেকেই রেজা পাহলভি ইরানের বাইরে বসবাস করছেন।
তিনি সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, 'লাখ লাখ ইরানি আমার নাম ধরে ঢাকছেন। জীবনের প্রতিটা বছরই ইরান আমার মনে ছিল।' তার মতে, ইরানের জনগণ তাকে একজন অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে বিবেচনা করে, এবং তিনি দেশে ফিরে ইরানের হাল ধরতে আগ্রহী।
বিশ্বজুড়ে ইরানিদের সমর্থন ও মিছিল
খামেনির মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে বহু ইরানি রেজা পাহলভির ছবি নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করছেন। তারা তাকে দেশে ফেরার জন্য জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন এবং ইরানের নতুন নেতৃত্ব দিতে বলছেন। এই আন্দোলন ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। রেজা পাহলভির ধারণা, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ইরানের বর্তমান শাসনের পতন ত্বরান্বিত করবে, যা তাকে ক্ষমতায় ফিরে আসার পথ সুগম করতে পারে।
এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। রেজা পাহলভির ভূমিকা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বিশ্বব্যাপী নজর রাখা হচ্ছে।



