মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিতকরণের পঞ্চম প্রস্তাবও নাকচ
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে আবারও নাকচ হয়ে গেছে। এই ভোটাভুটিতে ৪৬ জন সিনেটর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও ৫১ জন এর বিপক্ষে অবস্থান নেন, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হতে পারেনি।
পঞ্চম প্রচেষ্টায়ও ব্যর্থতা
ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন ক্ষমতা সীমিত করার এই পঞ্চম প্রচেষ্টায় ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের প্রস্তাবটি রিপাবলিকানদের বিরোধিতার মুখে পড়ে। ভোটের আগে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট চাক শুমার রিপাবলিকান সিনেটরদের কঠোর সমালোচনা করেন এবং মন্তব্য করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।
শুমার আরও উল্লেখ করেন, এই ভোটাভুটি ছিল সিনেটের 'রিপাবলিকান পুতুলদের' জন্য সেই যুদ্ধ বন্ধের পঞ্চম সুযোগ, যা তারা কাজে লাগাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। মূলত ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা বজায় রাখা এবং ডেমোক্র্যাটদের তা সীমিত করার লড়াইয়ে এই ভোট রিপাবলিকানদের একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। ভোটাভুটির ফলাফল নিম্নলিখিত দিকগুলো তুলে ধরে:
- রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় থাকা
- ডেমোক্র্যাটদের যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ
- আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্কিন নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা অব্যাহত থাকায় এই সিনেট ভোটের তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের হাতে যুদ্ধের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকায় ভবিষ্যত কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সূত্র হিসেবে আলজাজিরার প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই রাজনৈতিক সংঘাতের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে। মার্কিন সিনেটের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।



